কাশ্মীরকে গভীর সংকটে ফেলছে মোদি সরকার

101

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

সম্প্রতি ভারত অধ্যুষিত কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিল করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এতেই গভীর সংকটে পড়েছে কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ। তবে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পরিণাম যে কী হতে চলেছে, তা এখনো সঠিকভাবে অনুমান করা যাচ্ছে না। কাশ্মীরের বেশির ভাগ মানুষ বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তে যে প্রবল ক্ষুব্ধ তা গোপন নেই এবং এর ফলে উপত্যকায় সশস্ত্র বিক্ষোভ নতুন করে প্রসার পাবে কিনা সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। বিবিসি বাংলা অনলাইনের প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা বলছে, আবদুল্লা বা মুফতি পরিবারের মতো কাশ্মীরের ‘ভারতপন্থী’ রাজনীতিকদের কিংবা হুরিয়ত কনফারেন্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের প্রাসঙ্গিকতা কতটা বজায় থাকবে সেটাও বেশ অস্পষ্ট। তবে সবচেয়ে বড় কথা- লাখ লাখ সেনা মোতায়েন করে কাশ্মীরকে বাকি ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিশিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ দিল্লি নিয়েছে তা আদৌ সফল হবে কিনা, মূলত সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের নাটকীয় সিদ্ধান্ত কাশ্মীরে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার দুদিনের মধ্যেই সেখানকার পরিস্থিতি উত্তাল হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মীর। পাকিস্তান থেকেও আসতে থাকে বাড়তি চাপ। কিন্তু, সব কিছু উপেক্ষা করে সিদ্ধান্তে অটল আছে ক্ষমতাসীন দল।

কাশ্মীরের ব্যবসায়ী ইরফান জাভিদ বলেন, ‘ফারুক আবদুল্লার পরিবারকেই দেখুন না! যাদের ভরসায় গত সত্তর বছর ধরে দিল্লি এখানে রাজত্ব করল, তাদেরও আজ প্রমাণ দিতে হচ্ছে তারা ভারতীয় কি না। আবদুল্লা পরিবারের এই হাল হলে সাধারণ কাশ্মীরিদের কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন।’

মুম্বাই আইআইটির সাবেক অধ্যাপক ও লেখক-গবেষক রাম পুনিয়ানি মেহবুবা মুফতির দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, ‘একবার উগ্রপন্থীদের দিকে ঝুঁকে, একবার বিজেপির সঙ্গে গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই বিভ্রান্ত। কাশ্মীর প্রশ্নে তিনি সংলাপ চেয়েছিলেন, কিন্তু নিশ্চিত করতে পারেননি সেটাও।’

তবে, কাশ্মীরে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা হবে কিনা কিংবা হলেও তা কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে ভাবছেন অনেকেই। কিন্তু কাশ্মীরে দিল্লির সমর্থনপুষ্ট কোনো নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হলেই কি বাকি ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরের আত্মিক যোগাযোগ সম্ভব?

কাশ্মীরের নবীন রাজনীতিবিদ ও জেএনইউ-র সাবেক ছাত্রনেতা শেহলা রশিদ বলেন, ‘অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের ভ্যালি থেকে এয়ারলিফট করে কিংবা ভারতীয় পর্যটকদের বিদেশিদের ডিপোর্ট করার মতো করে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করতে হয়, সেখানে কীভাবে ইন্টিগ্রেশন সম্ভব? আমি তো বলব মোদিজি স্রেফ লোকের চোখে ধুলো দিচ্ছেন!’

কাশ্মীর গবেষক রাম পুনিয়ান বলেন, ‘একটা ভূখ-কে নিজের দেশে যুক্ত করার দুটো রাস্তা আছে। একটা হলো সেই সমাজের গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে, ভরসার সেতু গড়ে এবং তাদের হৃদয় বা মন জিতে নিয়ে। আর দ্বিতীয় পথটা হলো সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, ঠিক যেটা এখন ভারত করছে।’

ইতিহাসবিদ মহুয়া সরকার বলেন, ‘কাশ্মীরের মধ্যে চিরকালই কিন্তু একটা প্লুরালিজম (বহুত্ববাদ) ছিল, এবং সেটা এখনো আছে। কলহনের রাজতরঙ্গিণী যেখানে লেখা, তার ইতিহাস আবহমানকাল ধরে বহুত্ববাদকে সম্মান করে এসেছে। ভারতের কাছে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমার বিশ্বাস, যতটা সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে ও ডেমোক্র্যাটিক পন্থায় সেটা রক্ষা করা যায় ততই ভালো।’ অর্থাৎ তিনিও কাশ্মীরের সেই বহুত্ববাদকে রক্ষা করার কথাই বলছেন – তবে যতটা সম্ভব গণতান্ত্রিক পথে।

কিন্তু সমস্যা হলো, ৩৭০ ধারা বিলোপের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের ওপর আচমকাই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতে সেখানে কাশ্মীরের মতামত নেওয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করেনি। যে কারণে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- তবে কি মোদি সরকারই কাশ্মীরকে গভীর সংকটে ফেলছে?

 

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন