গাইবান্ধায় ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন, পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

89
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ।। জিবি নিউজ ।।

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষনের অভিযোগে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা হয়েছে।

বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় লোক লজ্জায় ওই কলেজ ছাত্রী কীটনাশকপানে আতœহত্যার চেষ্টা করে বর্তমানে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে পুলিশ সদস্য আবুু বক্কর সিদ্দিক ও তাকে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলামকে আসামী করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক রংপুর মেট্রপলিটন পুলিশের কনষ্টেবল পদে কর্মরত।তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বারবলদিয়া বেকাটারী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এবং আমিনুল একই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রীর মা আলেমা বেগম জানান, পুলিশ সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আমার প্রতিবেশী। আমার পরিবারের সকলের অজান্তে আবু বক্কর সিদ্দিক আমার মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলিতো। এক পর্যায়ে আবু বক্কর সিদ্দিক আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সময় তার বিভিন্ন আতœীয়ের বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষন করে।

এছাড়া রোববার (১১আগষ্ট) সকাল ১১ টার দিকে প্রতিবেশী কফিল উদ্দিনের ছেলে ফেরদৌস মিয়ার স্ত্রীর সহযোগিতায় তার বাড়ীতে নিয়ে সিদ্দিক আমার মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে দ্রুত বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষন করে এবং সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে আমার মেয়েকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে আমার বসতবাড়ীর সামনের দিকে থাকা ডিপ ঘরের দক্ষিন পাশে বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষন করে সিদ্দিক।

এসময় আমিনুল মোটর সাইকেল নিয়ে পাশ্ববর্তী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর আমার মেয়ে সিদ্দিককে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সিদ্দিক ধর্ষিতাকে মারধর করে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আমিনুলের মোটর সাইকেলে চড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।ওই দিন রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আমার মেয়েকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করতে থাকি। এই ঘটনার পর আমার মেয়ে আমাদের বাড়ীর সামনে একটি আম গাছের নিচে বসে কাঁদতে দেখে প্রতিবেশীরা। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আমার মেয়ে লোক লজ্জায় কীটনাশকপানে আতœহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা  জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।

 

আলেমা বেগম অভিযোগ করেন, আবু বক্কর সিদ্দিক পুলিশ সদস্য হওয়ায় সে ও তার লোকজন মামলা না করতে নানা রকমের হুমকি দিয়ে আসছিল। মামলা হওয়ার পর পরেই আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সর্বশান্ত করবে বলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে।

 

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি) খান মো: শাহরিয়ার বলেন, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More