কে হচ্ছেন পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার আলোচনায় চার অতিরিক্ত আইজিপি ও দুই ডিআইজি

146

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ

অবসরে যাচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বড় ইউনিট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরবর্তী প্রধান কে হচ্ছেন নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। ১৩ আগস্ট মো. আছাদুজ্জামান মিয়া অবসরে যাওয়ার পর নতুন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার চার পুলিশ কর্মকর্তা নাম শোনা যাচ্ছে। ছাড়া ডিআইজি পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তার নামও রয়েছে আলোচনায়। যুক্তরাজ্য সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সূত্রগুলো দাবি করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার নয়া পুলিশ কমিশনার হিসেবে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেনপুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, পুলিশের বিশেষ শাখাএসবির অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম, শেখ মারুফ হাসান আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৮৯ সালে অষ্টম ব্যাচে পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। এই চার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্য থেকে যে কোনো একজন ডিএমপির কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।                  সূত্র জানায়, ছাড়া কমিশনারের দৌড়ে অপেক্ষাকৃত দুজন জুনিয়র দুজনের নামও শোনা যাচ্ছে। তারা হচ্ছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার ডিআইজি মনিরুল ইসলাম ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তাদের উভয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ। মনিরুল ইসলাম ১৫তম বিসিএস হাবিবুর রহমান ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। এদের একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব দিয়ে চমক দেখানো হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনার হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি সিআইডি প্রধান শফিকুল ইসলাম। নীতি নির্ধারক পর্যায়ে তার কমিশনার হওয়ার আলোচনা সবচেয়ে বেশি। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। বিএনপি শাসনামলে তাকে দেশের দুর্গম এলাকায় শাস্তিমূলক বদলি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়। সরকারের কাছেক্লিন ইমেজ অফিসার হিসেবে তার বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি থাকায় ঢাকার সব জেলায় ইতিবাচক পরিস্থিতি রেখেছিলেন।ক্লিন ইমেজডেকোরেটেড অফিসারহিসেবে কমিশনারের পদের জন্য এগিয়ে আছেন তিনি।

ছাড়া এই পদে দ্বিতীয় যে ব্যক্তির নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপির (চলতি) দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ১৬ মে তাকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির পদ থেকে পুলিশ সদর দফতরে অতিরিক্ত আইজিপির চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) . মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীরগুডবুকেনাম আছে মামুনের। সূত্র বলছে, যদি ডিএমপি কমিশনার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী আইজিপির মতামত নেন তাহলে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনই ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পেতে পারেন।

ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি) মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি সর্বশেষ নৌপুলিশের ডিআইজির দায়িত্ব পালন করেন। তার বাড়ি খুলনায়। মতিঝিলে হেফাজত ইসলামীর তান্ডব বিএনপিজামায়াতের জ্বালাওপোড়াও আন্দোলন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ মিকা রাখেন এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

দায়িত্বশীল একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডিএমপি কমিশনারের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার। সাধারণত পদমর্যাদার চারজনের নামের তালিকা প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়। দক্ষতা, যোগ্যতা সরকারের সবচেয়ে আস্থাভাজন কর্মকর্তাকেই গুরু দায়িত্ব দেয়া হয়। সাধারণত ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা আসে।

ওই কর্মকর্তারা জানান, যদিও নিয়ম অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কাকে পদায়ন করা হবে, তা রাষ্ট্রপতির বিষয়। কিন্তু পদোন্নতি, বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরআনঅফিসিয়ালঅনুমোদন নিতে হয়। গ্রহণযোগ্যতা আস্থা বিবেচনায় পদটিতে নিয়োগ দেয়া হয়। সিনিয়রজুনিয়র নির্বিশেষে যে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে সরকারি সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরকারি সফরে ভারতে রয়েছেন। তিনি ফিরে আসার পর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একই সূত্র মতে, ঈদের ছুটির কারণে নতুন ডিএমপি কমিশনারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুটা দেরি হতে পারে। ছুটি শেষে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ডিএমপির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি। মাত্র ১২ টি থানা নিয়ে ডিএমপির যাত্রা হয়। ডিএমপি গঠনের আগে ঢাকা জেলা পুলিশ শহরের নাগরিক শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখভাল করত। বর্তমানে ডিএমপির অধীনে মোট ৫০টি থানা রয়েছে। সর্বশেষ ডিএমপিতে যুক্ত হওয়া নতুন থানা হলো হাতিরঝিল থানা। আর ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের অধীনে ৪২টি বিভাগে কর্মকর্তাসহ ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য এখন দায়িত্ব পালন করছেন।