যুক্তরাজ্যের জন্যে ব্রেক্সিট অপার অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন করবে।।বরিস জনসন

171

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

শনিবার নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আরো বলেন, পূর্বের থেরেসা মে সরকার এই বিষয়টিকে সবসময়ই আসন্ন ক্ষতিকর প্রতিকূল দিক হিসেবে দেখে আসছিলো। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এএফপিএ

ম্যানচেস্টারে দেয়া ভাষণে বরিস অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কমুক্ত বন্দরের প্রতিশ্রæতি দেন। এই সময় ব্রেক্সিট সমঝোতা নিয়ে তিনি বলেন, থেরেসা প্রশাসনের বিচ্ছেদ চুক্তি থেকে ‘ব্যাকস্টপ’ বাদ দিলেই তিনি ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতায় যাবেন। চুক্তির ব্যাকস্টপ ধারায় ব্রেক্সিট পরবর্তীতে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ইইউভুক্ত আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার উন্মুক্ত সীমান্তের কথা বলা হয়েছিলো। বরিস বলেন, এটি যুক্তরাজ্যকে বিভক্ত করবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া বরিস যে কোন মূল্যে ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইইউ থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। যদিও গত কয়েকদিন ধরে জোর দিচ্ছেন অভ্যন্তরীণ নীতি ও সংস্কারের ওপর। ম্যানচেস্টারের ভাষণে তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের মানুষ যখন ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ভোট দিয়েছিলো। এটি শুধু ব্রাসেলস নয়, লন্ডনের বিরুদ্ধেও ভোট ছিলো। বরিস স্থানীয় সম্প্রদায়কে অধিক ক্ষমতা প্রদান, ব্রডব্র্যান্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনিস্টার শুধু ইইউ’র কাছ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্বই পুনরুদ্ধার করছে না, এর অর্থ আমাদের শহর ও কাউন্টিগুলোকে আরো বেশি স্ব-শাসিত করে তোলা। ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমাদের জন্য অপার আর্থিক সুযোগ উন্মুচিত হবে যা কি না গত দীর্ঘ দশক ধরে হয় নি।

এর ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৭ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টে থেরেসা মে’র হারানো রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করবেন তিনি। বার্মিংহাম সফরে বরিস বলেছেন, ‘ব্রিটিশ জনগণ ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে তাদের রায় বাস্তবায়ন চেয়েছেন। তারা কোন নির্বাচনি প্রক্রিয়া, গণভোট বা সাধারণ নির্বাচন চান নি। তবে যদি এমপিরা যদি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে অনাস্থা প্রস্তাব এনে জনসনের নতুন সরকারের পতন ঘটান তবে আরেকটি নির্বাচনের দিকে হাঁটতে হবে ব্রিটেনকে। ২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ভাগ ব্রিটিশ ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার গণভোটে রায় দিয়েছিলেন।