দীর্ঘ ১ বছর পর বিয়ানীবাজার পৌর শহরে ফিরেছে মাছ বাজার জনমনে স্বস্তি

150
gb
মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজারঃ দীর্ঘ প্রায় ১ বছর পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরে ফিরে এসেছে মাছ বাজার। তবে আলোচিত পৌর কিচেন মার্কেটের বরাদ্দকৃত জায়গায় নয়, পুরনো মৎস্য বাজারের পূর্ব পাশে (মোরগগলির পূর্বে) ব্যক্তিমালিকানাধীন পৌরসভার ভাড়া করা ভূমিতে অস্থায়ীভাবে নির্মিত বাজারে ফিরে এসেছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে এ বাজারে মাছ বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। অপর ব্যবসায়ীরাও আজকালের মধ্যে বাজারে ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ব্যবসায়ীদের স্বাগত জানান। পৌর কর্তৃপক্ষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে পৌরশহরে পুনরায় ফিরে এসেছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মাছ বাজারের পাশে সবজি বাজারও নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌরশহরে মাছ বাজার ফিরিয়ে আনতে প্রায় এক বছর থেকেই দফায় দফায় বৈঠক করছেন পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য ব্যবসায়ী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা। উভয়পক্ষ নানা দাবী দাওয়ার বিষয় নিয়ে ঐক্যমতে পৌছতে না পারায় শহরে মাছ বিক্রি বন্ধ ছিল। অবশেষে নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল­ব’র মধ্যস্থতায় পৌর মেয়র মো: আব্দুস শুকুর ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফলপ্রসু সমঝোতা হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ীরা ফিরলেও তারা পৌর কিচেন মার্কেটে উঠছেন না। পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর মোরগগলির পূর্বপাশের ব্যক্তি মালিকাধীন যে জায়গা ভাড়া নিয়েছেন সেখানেই বসছেন ব্যবসায়ীরা। আপাতত জায়গাটির পরিসর ছোট হলেও একই স্থানে সবজি ব্যবসায়ীদেরও নিয়ে আসা হবে। দক্ষিণ পাশের খোলা জায়গা ও পশ্চিম পাশের আধাপাকা ঘরটি ভেঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রস্তুত করে দেয়া হবে। প্রথম দিন মাছ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বাজারে মৎস্য বিক্রি শুরু করেছেন। অপর বৃহত অংশের ব্যবসায়ীরাও আজকালের মধ্যে ঐ বাজারে ব্যবসা শুরু করবেন বলে জানা গেছে। বিয়ানীবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ বলেন, কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের ফলপ্রসু সমঝোতা হয়েছে। আমরা দু’তিন দিন সময় নিয়েছিলাম। এ অবস্থায় আজ সকাল থেকে একটি গ্রামের (লাসাইতলা) ব্যবসায়ীরা শহরের ঐ বাজারে ব্যবসা শুরু করেছেন। আমরাও ঐ স্থানে ব্যবসা শুরু করব। তবে মুরব্বীদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে যাব। মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, এ বাজারে ব্যবসা করা অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখানে চলে এসেছেন। যারা অন্যত্র রয়েছেন আমাদের বিশ্বাস তারাও চলে আসবেন। ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন বলেন, প্রথম দিকে ৬০টির মতো চৌকি নিয়ে আমরা শুরু করছি। কয়েকদিনের মধ্যে সেটি আরো বৃদ্ধি পাবে। সকলের সহযোগিতা কামনা করে আড়তদার ঈমাম উদ্দিন বলেন, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানের আমাদের সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সব রকম সুযোগ সুবিধা তারা নিশ্চিত করেছেন। আমাদের দাবির অধিকাংশপুরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। যার কারণে আমরা ফের পৌর শহরের ফিরে এসেছি। পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর বলেন, যে দুরত্ব তৈরী হয়েছিল সেটি ভুলবোঝাবুঝির ফল। একটি পক্ষ আমাদের সাথে মাছ ব্যবসায়ীদের দুরত্ব তৈরী করে রেখেছিল। এটি আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমি সব সময় ব্যবসায়ীদের বলে এসেছি- সব রকম সুযোগ সুবিধা পৌরসভা দেবে। এতে কোন ব্যত্তয় ঘটবে না। আমাদের প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তুত। তিনি সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ী, উপজেলা ও পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। মাছ ব্যবসায়ীরা ফিরে এসেছেন আমরা তাদের সুন্দর পরিবেশে বরণ করে নিয়েছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল­ব বলেন, আমাদের সাথে আলোচনা করে মাছ ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছিলেন জনগণের ভোগান্তি রোধে তারা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে ব্যবসায়ীরা আমাদের আশ্বস্থ করেছেন তারা যদি সুযোগ সুবিধা পান এবং তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয় তাহলে তারা আসবেন। পৌর মেয়রসহ আমরা তাদের আশ্বস্থ করেছি জনস্বার্থে সব সুযোগ সুবিধা আমরা তাদের দিতে পারবো। তিনি বলেন, বুধবার মাছ ব্যবসায়ী, পৌর মেয়রসহ একটি বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকের পরেই আজ থেকে মাছ বিয়ানীবাজার পৌরশহরে মাছ বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা তাদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। উলে­খ্য, পৌর কিচেন মার্কেট নির্মাণের সময় মাছ ব্যবসায়ীরা অস্থায়ীভাবে শহরের প্রধান সড়কের পাশে মাছ বিক্রি শুরু করেন। কিচেন মার্কেট নির্মাণের পর প্রথম তলায় তাদের স্থান না দেওয়ায় তারা সেখানে স্থানান্তর হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রথম পৌর মেয়র মো: আব্দুস শুকুর পৌর কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীদের জন্য স্থান বরাদ্দ করেন। কিন্তু মৎস্য ব্যবসায়ীরা সে স্থানে ফিরে যায়নি। একপর্যায়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান সড়কের পাশ থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়। সে সময় ব্যবসায়ীরা পৌরশহরের সর্বত্র মাছ বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বৈরাগীবাজারের আব্দুল্লাপুরে নতুন মাছ বাজার তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে গত প্রায় এক বছর পৌর শহরের কোথাও মাছ বিক্রি না হওয়ায় ক্রেতা সাধারণ ভোগান্তির শিকার হন। পাশাপাশি মাছ বাজার না থাকায় শহরের অন্যান্য ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিগত সময়ে একাধিক বৈঠক হলেও ফলপ্রসু কোন সমাধান হয়নি। অবশেষে প্রায় এক বছর পর উভয়পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে পৌরশহরে ফিরে এলো মাছ বাজার।

 

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More