শ্রীমঙ্গলে আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

38
gb

সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবাহন শ্রমিকদের আকস্মিক অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মÐলকে দ্রæত অপসারণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়া দেয় পরিবাহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় এ ধর্মঘট। এতে স্থানীয় কোন ধরণের গাড়ী চলাচন করছেন না। তবে দুর পাল্লার কিছু গাড়ী চলাচল করেছে। পুলিশ প্রতিটি পয়েন্টে সর্তক অবস্থান করছে। সোমবার দিনভর পুরো উপজেলায় মাইকিং করে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। উপজেলা ট্রাক, ট্যাংক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক- শাহাজান মিয়া বলেন, সড়কে গাড়ি আটকে তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক হয়রানির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। এতে করে শহরে প্রায় সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯ টার দিকে সরজমিন ঘুরে দেখা যায় শহরের ব্যস্ততম প্রতিটি সড়ক পরিবহণ শ‚ন্য। তবে শহরে ব্যাপক রিক্সা চলতে দেখো গেছে। শহরের গুরুত্বপ‚র্ণ মোড়ে মোড়ে শ্রমিকরা পিকেটিং করেছে। শহরতলীতে বিক্ষিপ্তভাবে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চলাচল করলেও যান বাহন কম থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছলে অনেক যাত্রীদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। চাকুরীজীবি মুহিবুর রহমান সকালে হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গল আসার পথে বাহুবল থানার লোছনা এসে কোন যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই রওনা দেন। তিনি বলেন, পরে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীতে করে তাকে শ্রীমঙ্গল আসতে হয়েছে। তবে দ‚র পাল্লার বাস ও ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। ধর্মঘটকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপ‚র্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শ্রমিক নেতা শাহাজান মিয়া জানান, গত ১৫ জুন লাশবাহী যানবাহনে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা দাবীর প্রতিবাদে ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মÐলকে অপসারন চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিকাল ৪টায় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা চত্বরে পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের সিলেট রিজিওনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সামসুল আলম সরকার জানান, ১৫ জুনে লাশের গাড়ী আটকিয়ে চাঁদাদাবীর ঘটনার তদন্তে সত্যতা মেলেনি। প্রকৃত পক্ষে লাশের কফিনে কোন লাশই ছিল না, লাশ দাফন করার পর খালি কফিন নিয়ে এসে শ্রমিকরা রাস্তায় আন্দোলন শুরু করে- তদন্তে এটা বেড়িয়ে এসেছে। পরিবহন শ্রমিকরা এর বাহিরে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুছ ছালেক জানান, দ‚রপাল্লা যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সে জন্য শহর ও প্রতিটি সড়কে পুলিশ সদস্য রয়েছে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More