এক ক্যাচ মিসের খেসারত ১৫৬ রান!

203

বাংলাদেশ দলের এ যাবতকালের সেরা ফিল্ডারের তালিকা করলে আপনি কাদের নাম জপবেন। নিশ্চয়ই নাসিরের নামটাই আগে বলবেন।পরের নামটা কিন্তু সাব্বির রহমানের আসবে।হয়তো কেউ বলবেন সাব্বির না তামিম ইকবাল। যাই হোক সাব্বিরকে কিন্তু সেরা ৫ ফিল্ডারের মধ্যে রাখতে হবে।

সেই সেরা ফিল্ডারই ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় আক্ষেপের কারণ হলেন। ম্যাচের শুরুতে মাত্র ১০ রানের সময় সহজ ক্যাচ ফেলে ডেভিড ওয়ার্নারকে দ্বিতীয় জীবন দেন সাব্বির। সেই ওয়ার্নারই বাংলাদেশের বোলারদের কচুকাটা করে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৬তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

শেষ পর্যন্ত ১৪৭ বলে করেন ১৬৬ রান। এবারের বিশ্বকাপে যা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে যায় রানের পাহাড়ে। সাব্বিরের এক ভুলের খেসারত দিতে হল ১৫৬ রান! অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা কিন্তু ভেঙে পড়েনি। বুক চিতিয়ে খেলেছে। এত বড় টার্গেট তাড়া করে ৩৩৩ রানে থেমেছে বাংলাদেশ ইনিংস।মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর লড়াকু ইনিংসটা যদিও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে লড়াইয়ের মনোবল।

ম্যাচ শেষে ওয়ার্নারের সেই ক্যাচ মিসের আফসোসে পুড়ছে বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া সাব্বির। আক্ষেপ বাংলাদেশ দলেরও।

সাব্বির সেই ক্যাচটি মিস করলে হয়তো ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।অস্ট্রেলিয়া এতবড় পুজি পেত না।বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা একটা কিছু করে ফেলতে পারত।

শুরুতে টাইমিং করতে সংগ্রাম করছিলেন ওয়ার্নার। পঞ্চম ওভারে তাকে ফেরানোর একটি সুযোগ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মাশরাফি মুর্তজার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে ঠিকমতো কাট করতে পারেননি ওয়ার্নার। পয়েন্টে নিচু ক্যাচ মুঠোয় জমাতে ব্যর্থ হন সাব্বির। সেই সময় ১০ রানে ব্যাট করছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনার। এরপর তাকে ফেরানের সুযোগই আর তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

১০ রানের সময় জীবন পেয়ে বাংলাদেশি বোলারদের যেন পেয়ে বসেন ‘অজি দানব’ ওয়ার্নার। পুরো ম্যাচে রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। ১৪৭ বলে ১৪টি চার ও ৫ ছয়ে ১৬৬ রান করেন। যার অর্থ সাব্বিরের এক ক্যাচের জন্য বাংলাদেশকে মাশুল দিতে হলো ১৫৬ রান!