আগুন নেভাতে এসে টোলের জন্য আটকে গেল ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি (ভিডিও)

135

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলো একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গেছে, টোলের জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আটকে রেখেছে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়কারী কর্মীরা।

আর সেই ঘটনার প্রতিবাদ করে ভিডিওচিত্র ধারণ করছেন এক ব্যক্তি।

সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পর থেকেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন নেটিজেন। কোন বুদ্ধিতে টোলের জন্য এমন জরুরি পরিবহনকে আটকে রাখা হলো সে প্রশ্ন ছুঁড়ছেন অনেকে।

এমন জরুরি পরিবহনের ক্ষেত্রে টোল দিতে হবে কি না সে বিষয়েও জানতে চান অনেকে।

জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিটকে এভাবে আটকে রাখে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়কারীরা। কিন্তু টোল দিতে না পারায় ফেরত আসতে হয় তাদের।

সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকাল ৩ টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনে ফোন আসে, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর একটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট বঙ্গবন্ধু সেতুর দিকে রওনা হয়। কিন্তু সেতুতে পৌঁছানোর পর ফায়ার সার্ভিসের সেই গাড়ি আটকে দেয় টোল আদায়কারী কর্মীরা।

এ সময় অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা টোল আদায়কারীকে জানায়, সেতুর ওপর একটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। তাদের দ্রুত ছেড়ে দিতে।

পাল্টা জবাবে কর্মীরা জানায়, ৮৫০ টাকা টোল না দিলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সামনে যেতে দেয়া হবে না।

টোল আদায় কর্মীদের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়েন অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে টোল প্লাজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান তারা। এ সময় বিষয়টি নিয়ে টোল আদায় কর্মীদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ফায়ার স্টেশনে ফেরত আসেন কর্মীরা।

এ বিষয়ে ভুঞাপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান শাহাদাত হোসেন গণমাধমকে বলেন, ‘সেতুর টোলম্যানদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আগুন লাগার কথা শুনে আমরা দ্রুত ছুটে এসেছি। টোল দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসা হয়নি।

কিন্তু আগুন লাগার বিষয়টি নাকচ করে দেন টোল প্লাজার পাভেল নামের এক কর্মী।

তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরায় সেতুতে কোনো গাড়িতে আগুন লাগার বিষয় ধরা পড়েনি। আপনাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য সঠিক নয়। তাই যেতে হলে টোল দিয়েই যেতে হবে।

এসব বাকবিতণ্ডার পর বাধ্য হয়ে গাড়ি নিয়ে ফেরত আসতে হয় বলে জানান ফায়ারম্যান শাহাদাত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘একমাত্র বঙ্গবন্ধু সেতুতেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির টোল চাওয়া হয়। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি।’

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির টোল আদায় প্রসঙ্গে আইন কি বলে এমন প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান সরওয়ার বলেন, ‘নীতিমালায় বলা আছে, রাষ্ট্রপতির ছাড়া সবার গাড়ির টোল দিতে হবে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স যাই হোক কোনো গাড়ির বেলায় শিথিলতা নেই।’

বঙ্গবন্ধু সেতুতে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি টোলের টাকা না দেয়ায় সেতু কর্তৃপক্ষ সেটি আটকে দেওয়ার পর আগুন না নিভিয়েই ফিরে গিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

Posted by Defence Research Forum- DefRes on Friday, June 7, 2019