সাতক্ষীরায় মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র গ্রাহকদের জামানতের ১১ কোটি টাকা ফেরত ও প্রতারকদের শাস্তির দাবি গ্রাহদের

gbn

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের আবুল কাশেম সড়কস্থ জেড প্লাজায় অবস্থিত মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নামের সরকার অনুমোদিত একটি অর্থ লগ্নীকারি প্রতিষ্ঠান জেলার ৭শ’ গ্রাহকের প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে মোঃ আব্দুল খালেক এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ সরকার অনুমোদিত একটি অর্থ লগ্নীকারি প্রতিষ্ঠান। যার রেজিঃ নং-৪৫/৩। সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭শ’ জন। সমিতির ৬ সদস্যের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আহসানুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ মামুনুর রশিদ বার্ষিক সাধারণ সভা না করেই তাদের ইচ্ছা মত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা অধিক মুনাফা (১৮% থেকে ২০%) দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১১ কোটি টাকা জামানাত নেন। গঠনতন্ত্রের ১৪ থেকে ২১ ধারা অমান্য করে কৌশলে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয় ও বন্ধুদের নামে মেথ্য লোন দেখিয়ে শেখ আহসানুর রশিদ ১ কোটি ২৫ লাখ, শেখ মামুনুর রশিদ ২ কোটি ৩০ লাখমেহেুবার ৭০ লাখ, তানিয়া ৫০ লাখ, হোসনে আরা ৫ লাখ, বাহারুল ১৯ লাখ, তৌফিক ১৯ লাখ, মনিরুজ্জামান ১৬ লাখ, সহিদুল ১১ লাখ, এহেসান ৭০ হাজার, শামীম ৫ লাখ, জান্নাতুল ২ লাখ, সোফিয়া ১০ লাখ, ইসমাইল পরিবারের নামে ২ কোটি ৪৯ লাখ, ব্যাংক থেকে নেয়া ১ কোটি টাকা, বেতনভাতা ২কোটি ১০ লাখ এবং মালামাল বাবদ ১কোটি অতিরিক্ত ভাউচার দেখিয়ে মোট ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আব্দুল খালেক বলেন, সদস্যরা ২০২০ সালের জুন মাসে জামানতের এবং মুনফার টাকা দাবি করলে সভাপতি বার বার ওয়াদা করে তালবাহনা শুরু করেন। অবশেষে ২০ সালের ২৯ অক্টোবর পাওনা টাকার জন্য সদস্যরা সমিতির কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলে পৌর সভার ৯ ওযার্ডের কাউন্সিলর সাগরের মধ্যস্থতায় স্টাম্পে লিখিত সিদ্ধান্ত হয় যে, সভাপতি ৩ মাসের মধ্যে সমিতির তহবিলে ৫ কোটি টাকা জমা দিবেন এবং গ্যারান্টিস্বরুপ ৫ কোটি টাকার একটি চেক প্রদান করেন। এঘটনার পর তলবী নোটিশের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশেষ তলবী সাধারণ সভায় ৭ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। তিনি আরো বলেন, সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের প্রতারনার বিষয় জানতে পেরে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, দুদক চেয়ারম্যান, ডিআইজি, ডিসি, এসপি ও সমবায় কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপ্রেক্ষিতে ডিআইজি নির্দেশনা মোতাবেক সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাঃ ও অপরাধ) বাদি এবং আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদন্তে নির্দেশ দেন যে, শেখ আহসানুর রশিদ ও শেখ মামুনুর রশিদ প্রতি রবিবার ডিসি অফিসে হাজিরা দিবে। সাতক্ষীরা থানার বাইরে যাবে না। প্রতি সপ্তাহে জমা টাকার রির্পোট দিবে। আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, শেখ আহসানুর রশিদ তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে পাওনা দারদের উপর হামলা চালাচ্ছে ও জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে গত ১২ জানয়ারি অবহিত করা হয়েছে। এদিকে তারা না জানিয়ে সমিতির অফিস থেকে ৩টি এসি সেট ও একটি কম্পিউটার নিয়ে গেছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের গ্রাহকদের জামানতের ১১ কোটি টাকা ফেরত দাবি করে প্রতারক শেখ আহসানুর রশিদ ও শেখ মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রতরনার শিকার অর্ধশতাধিক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আহসানুর রশিদ মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভাব হয়নি। #

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন