Bangla Newspaper

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্য অর্জন করবে- নিউইয়র্কে এসডিজি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী

0 80

নিউইয়র্ক, ১০ অক্টোবর ২০১৭  ||
“বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্য অর্জন করবে”- নিউইয়র্কের মিলেনিয়াম হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘Towards Sustainable Development: Lessons from MDGs & Pathway for’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়ে একথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক থিংঙ্ক ট্যাংক ‘দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি এন্ড গভার্ননেন্স (IPAG)

(The Institute for Policy Advocacy and Governance(IPAG)’ এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।ম্যানহাটানের ওয়ান ইউএন প্লাজায় অবস্থিত মিলেনিয়াম হিলটন হোটেলের ডিপ্লোমেটিক বলরুমে সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী সেশনে বক্তৃতা দেন ইউএনডিপি’র ব্যুরো অফ পলিসি এন্ড প্রোগ্রাম সার্পোট এর সহকারি প্রশাসক ও পরিচালক এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মাগদি মার্টিনেজ সোলিমান (Magdy Martinez Soliman)। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সামগ্রিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি নিরবচ্ছিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে পেরেছে যারফলে দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ৬ ভাগের উপরে রয়েছে। মানব সম্পদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাবলিক সেক্টরে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসকল পদক্ষেপের ফলে ১৯৯১ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ৫৬ শতাংশ ছিল তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে ২০১০ সালে ৩১ শতাংশে এসে দাড়িয়েছে”। তিনি সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ভিশন ২০২১ এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে আইসিটি ব্যবহার করে নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।এর আগে স্বাগত ভাষণ দেন আইপ্যাগ এর চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মুনির খসরু। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে সফলতার সাথে এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ পূরণে এর বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী এমডিজি অর্জনের কৌশল ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এমডিজি গ্রহণ করার আগেই ১৯৯৯ সালে আমরা এর বাস্তবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই এবং নিজেদের মতো করে লক্ষ্য স্থির করি। আমাদের নিজস্ব সম্পদ এবং যা কিছু উন্নয়ন সহযোগিতা পাওয়া যায় তা দিয়েই এমডিজি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের প্রবল ইচ্ছাশক্তির ফলে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি’র অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হই”। এমডিজি বাস্তবায়নের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও বাংলাদেশ কিভাবে এসডিজি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এসডিজি খুবই আলাদা। আমাদের ভাল অভিজ্ঞতা রয়েছে যার ফলে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা এখন খুব সহজ। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিশ্রতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি”। এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে মর্মেও অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ, এমডিজির সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য এসডিজি’র চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ এবং এসডিজি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্থনীতির ভ‚মিকা – এসকল বিষয় নিয়ে সেমিনারটিকে চারটি সেশনে ভাগ করা হয়।সেশনগুলোতে কী নোট স্পীকার ছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এর পরিচালক সারাহ্ ক্লীফ (Sarah Cliffe), ইউএনডিপি’র পরিচালক নিক শিকরান (Ruth Defries), কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর রুথ ডেফরাইস্ (Anthony F. Pipa) এবং দ্যা ব্রæকলিন ইনস্টিটিউশনের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়ক সিনিয়র ফেলো অ্যান্থনি এফ পিপা (Swaminathan S. Anklesaria Aiyar)। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, গবেষণাবিদ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের ১৬জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সেশনগুলোতে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেয়।সেশনগুলোতে মডারেটর ছিলেন, ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর গেøাবাল লিবার্টি এন্ড প্রোসপারিটি বিভাগের সিনিয়র ফেলো সোয়ামিনাথান এস আঙ্কেলেশ্বরিয়া আইয়ার (Lauren Bradford), গেøাবাল পার্টনারশীপ ফাউন্ডেশনের পরিচালক লরেন ব্রাডফোর্ড (Karolina Mzyk Callias), ইউএনডিপির তুরস্কের প্রতিনিধি ক্যারোলিনা মিজেক ক্যালিয়াস (Bjorn Gillsater) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রপের ইউএন প্রতিনিধি বিজর্ন গিলস্যাটার (Karolina Mzyk Callias)। সেশনের শেষে ভ্যালেডিকটরি স্পীচ প্রদান করেন জাতিসংঘের এসজিডি বিষয়ক গেøাবাল অ্যাডভোকেট ও হেলথ্ এমপ্লয়মেন্ট ও ইকোনমিক গ্রোথের হাই লেভেল কমিশনার ডা: আলয়া মুরাবিট (Dr. Alaa Murabit)।বাংলাদেশ ডেলিগেশনের মধ্যে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজম।সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে এমডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য এবং এই অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নেও সফল হবে এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

Comments
Loading...