সিলেটে হাসপাতালে মন্ত্রী, নেতাকর্মীদের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়!

জিবি নিউজ প্রতিনিধি//

হৃদ্‌রোগজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে ছুটছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে কেবিনে গিয়ে ছবি তোলা এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় সিলেটজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

 

 

 

শাকুর মজিদ নামের একজন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীকে চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও দেখতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মন্ত্রী একজন পাবলিক ফিগার হলেও তাঁর কেবিনে দর্শনার্থীদের ভিড় এবং ছবি তোলার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

 

শাকুর মজিদের মতে, হাসপাতালে রিসেপশনে একটি খাতা রাখা যেতে পারে। সেখানে দর্শনার্থীরা সরাসরি সাক্ষাৎ না করে রোগীর প্রতি শুভকামনা ও সুস্থতা কামনার বার্তা লিখে যেতে পারেন। এতে রোগীর বিশ্রাম ও চিকিৎসার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকার পাশাপাশি শুভেচ্ছার বার্তাগুলো স্মারক হিসেবেও সংরক্ষিত থাকবে। সাধারণ দর্শনার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎ রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

শাকুর মজিদের ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বিষয়টি নিয়ে আরও সরস ও তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।

 

 

ইশতিয়াক আহমদ মন্তব্যে লিখেছেন, এখানে মূল সমস্যা নিয়ম মানা বা না মানা নয়, বরং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা। তাঁর ভাষায়, মন্ত্রীর কেবিন নিরিবিলি থাকার কথা থাকলেও সেটি যেন ‘কাজির বাজারের এক অংশে’ পরিণত হয়েছে। অনেকের কাছে অসুস্থ নেতাকে দেখতে যাওয়ার চেয়ে তাঁর সুদৃষ্টি পাওয়া, পদ-পদবি নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ই মুখ্য হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

আব্দুল কাদির বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোসাহেবি ও চামচানির প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটাই যেন অনেকের প্রধান উদ্দেশ্য।

 

 

শাহ অর্নব মন্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে দেখতে না গেলে সুস্থ হওয়ার পর ওই নেতা রাগ করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকের কাছে হাসপাতালে যাওয়াটা একরকম বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

সালাউদ্দিনের মন্তব্যেও উঠে এসেছে রাজনৈতিক পদ-পদবি হারানোর আশঙ্কা। তাঁর মতে, অনেক নেতা হয়তো নিজেরাও হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় চান না। কিন্তু বড় নেতা অসুস্থ হলে ছোট নেতারা দেখতে না গেলে পরবর্তী সময়ে পদ-পদবি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও কাজ করে।

 

এদিকে আলোচিত মন্তব্যগুলোর মধ্যে রেদোয়ান শাহের একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি লিখেছেন, কোনো নেতা হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে দেখতে কারা গেছেন, তা নেতার ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস খাতায় লিখে রাখেন বলে তিনি নিজে কয়েকবার দেখেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর হাসপাতালে ভিড় করার পেছনে উপস্থিতির তালিকায় নিজের নাম রাখার আগ্রহও থাকতে পারে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যগুলো ঘিরে রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিতে ব্যক্তিপূজা, তোষামোদ, পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক আনুগত্য প্রদর্শনের প্রবণতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

এদিকে সিলেটের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধি অসুস্থ হলে তাঁর সুস্থতা কামনায় পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে সেই শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে রোগীর বিশ্রাম, চিকিৎসা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

 

সিলেটের রাজনৈতিক নেতারা বলেন, রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন কিংবা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের চেয়ে একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখানো জরুরি। হাসপাতালে গিয়ে রোগীর পাশে ভিড় না বাড়িয়ে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে মন্ত্রীর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন