আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শুরু হওয়া আন্দোলন চরম সহিংস রূপ নিয়েছে। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানিয়েছেন, মাস্ক পরা সশস্ত্র তরুণদের তাণ্ডবে রাজধানী প্যারিসের পুরো রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সহিংসতার বৃদ্ধির ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফরাসি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী প্যারিসে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল মিছিলটি মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও দিন গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রস্থল ‘প্লেস দে লা রিপাবলিক’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ তীব্র লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানেগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
বিক্ষোভের কারণে দেশটির একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যকরনু জানিয়েছেন, এই সংঘাত ও বিশৃঙ্খলায় অন্তত ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সাঁ-এতিয়েন শহরে পুলিশের গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারী যুবকের হাত উড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মূলত সেকেন্ডারি স্কুলগুলোতে (লাইসি) শিক্ষকের অভাব ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। শনিবার সেই আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক ‘হলুদ ভেস্ট’ (জিলে জোন) আন্দোলনের কর্মীরা একাত্মতা প্রকাশ করে রাস্তায় নামলে পুরো ঘটনাটি দেশব্যাপী বড় ধরনের সরকারবিরোধী সংঘাত ও জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন