পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার সময় ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কিরাণা হিলসে একটি ভারতীয় ড্রোন আঘাত হেনেছিল। তবে ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারতের সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান।
তার ভাষ্য, ইসরায়েলি প্রযুক্তির হারোপ ড্রোনটি সারগোদা ও আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানের রাডার শনাক্তের কাজে নিয়োজিত ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো লক্ষ্য খুঁজে না পাওয়ার পর কিরাণা হিলসের কাছে ড্রোনটির জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। এরপর সেটি ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে।
ঘটনার এক বছর পর এ নিয়ে মুখ খুলল ভারতের সেনাবাহিনী।
নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে জেনারেল চৌহান বলেন, ‘ভারতী (এ কে ভারতী) ঠিকই বলেছিলেন, আমরা কিরাণা হিলসকে লক্ষ্যবস্তু করিনি।’
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জেনারেল চৌহান আরো বলেন, ‘হামলার আগে আমরা সারগোদা ও তার ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কিরাণা হিলসে প্রচুর লোইটারিং মিউনিশন (আত্মঘাতী ড্রোন) পাঠিয়েছিলাম। এগুলো সারগোদা ও তার আশপাশের রাডার খুঁজছিল।
Your browser does not support the video tag.
এগুলোর একটি নির্দিষ্ট ফ্লাইং টাইম থাকে। সাধারণত দুই ঘণ্টার মতো এগুলো আকাশে উড়তে পারে। এসময়ের মধ্যে টার্গেট না পেলে এটি শেষ পর্যন্ত কোথাও না কোথাও গিয়ে আঘাত হানবে। সম্ভবত এটি তেমনই কোনো একটি পাহাড়ে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল।’
সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্কার্দুতেও বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।
তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে সেই মিশন বাতিল করা হয়।
জেনারেল চৌহান বলেন, ‘বিমানবাহিনী প্রধান আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি সারগোদায় হামলা চালাবেন কি না। আমি বলেছিলাম, এগিয়ে যান এবং আরও দুটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করুন। তিনি যে স্থানগুলো বেছে নিয়েছিলেন, তার একটি ছিল স্কার্দু। আমরা অনুমতি দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু সময় পর স্কার্দুর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা বদলে ভোলারিতে হামলা চালাতে হয়।’
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন