কোন দেশের নাগরিকত্বা পাচ্ছে শামীমা ? বৃটেন, বাংলাদেশ নাকি নেদারল্যান্ড

171
gb

হাসিনা আক্তার || জিবি নিউজ ||

গত কয়েকদিন থেকে যে বিষয়টি ব্রিটিশ মিডিয়াতে সব চাইতে বেশী প্রাধান্য পেয়েছে তা হচেছ শামীমার প্রসংঙ্গ । ইষ্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রীনে বসবাস কারী শামীমা ৪ বছর আগে মাত্র ১৫ বছর বয়সে আরো দুই বান্ধুবীর সাথে আই এস এর সাথে যোগ দেওয়ার জন্য সিরিয়া চলে যান। সেই সময় যেমন তারা আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন এখনও ঠিক তাই। সিরিয়া যাওয়ার পর নেদারল্যন্ডের এক আই এস বিদ্রোহীকে বিয়ে করেছেন । ১৯ বছর বয়সী শামীমা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন ৪/৫ দিন আগে। এতবছর পর শামীমা তার এবং সন্তানের কথা চিন্তা করে বৃটেনে ফিরে আসার ইচেছ প্রকাশ করে। দীর্ঘ ৪ বছর পর তার ফিরে আসার ইচেছকে স্বাগত জানাতে পারছে না ব্রিটিশ সরকার , বাতিল করা হয়েছে শামীমার নাগরিকত্ব, পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শামীমাকে নাগরিকত্বা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃট্রিশ বিরোধীদল শামীমার নাগরিকত¦া নিয়ে ভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছে। তবে পরিবার থেকে শামীমার বাবা বলেছেন, সরকার থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাই তিনি মেনে নিবেন।
বর্তমানে শামীমা কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ দ্বারা পরিচালিত আল হাওয়ল নামক ক্যাম্পে বসবাস করছে। এই এস ডি এফ সংস্থাটি নারী এবং শিশুকে আই এস এর খেলাফত আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে । তবে ক্যম্পে বসবাসকারীরা জানিয়েছেন এইটি একটি কারাগারের মত তাদের কাছে এবং এই কারাগারে তাদের কতদিন থাকতে হবে তা তারা জানে না । শামীমা স্কাই সাংবাদিককে জানিয়েছে, এই ক্যাম্পের কর্মকর্তারা তার সমস্ত কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেছে। তাই সে এবং তার ছেলে ঠিক মত কিছুই পাচেছ না , অসুস্থ অবস্থায় তাকে খাওয়ার জন্য এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে হচেছ। এই ক্যাম্পটি আই এস এর পরিবারের সদস্যদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ করে থাকে। যদিও বলা হয় ৪২০০০ জন লোক ধারণ করার ক্ষমতা থাকলেও খাদ্য , ঔষধ এর অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে বলে বিভিন্ন ভাষায় জানিয়েছে ক্যাম্পে বসবাসকারীরাসহ শামীমাও। ইতিমধ্যে শামীমার দুই বাচচা অপুষ্টিতে মারা গিয়েছে বলে মিডিয়াকে জানিয়েছে শামীমা। এই ক্যাম্পের অনেকেই তাদের নিজেদের দেশে ফেরত যেতে যাচেছ কিন্ত কেউই তেমন কোন সাড়া পাচেছনা বলে জানিয়েছেন স্কাই সাংবাদিককে।
শামীমার বৃটেনে আসার ইচেছকে স্বাগত জানাতে পারছেন না বৃটিশ হোম সেক্রেটারী সাজিদ জাভিদ সহ পুরো সরকারীদল। তাদের যুক্তি মতে শামীমা বৃটেনে প্রবেশ করা মানে হচেছ পুরো বৃটেনের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তায় পড়বে। সাজিদ জাবিদ আরো বলেন , আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৃটেন এবং বৃটেনের মানুষের নিরাপত্তা। শুধু সরকারী দলই নয় বৃটেনের বেশীর ভাগ শামীমাকে বিশ্বাস করতে পারছেনা । কিন্ত বিরোধীদলের নেতা জেরেমি করবিনসহ অন্যনেতারা বলছেন অন্যকথা, শামীমার নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়াকে অমানবিক মনে করছেন লেবার লিডাররা। অন্যদিকে মা বাবার জন্মসুত্র অনুযায়ী শামীমা বাংলাদেশের নাগরিকতা পেতে পারে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত। শামীমার বয়স এখন ১৯ হওয়া সত্তে¡ও সিরিয়া ফেরতের কারণে শামীমাকে নাগরিকত্বা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
১৫ বছর বয়স কোনটা ঠিক কোনটা ভূল তা বুঝে উঠার জন্য যথেষ্ট নয় । তাছাড়া শামীমার পরিবারের কেউ আই এস এর সাথে জড়িত না সে পারিবারিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বৃটেনের আইন যদি এতে কঠোর হয় নাগরিকত্বার ব্যাপারে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন আসে মনে ১৫ বছরের মেয়েরা কিভাবে ইউকে বর্ডার পার হলো?? শামীমা এখন মাত্র তার বয়স ১৯ , ইতিমধ্যে তার জীবনের অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে দেখা গেছে। স্কাই টিভি সাক্ষাতকারে শামীমা বলেছিল যে , সে সিরিয়া পালিয়ে গিয়েছে , আই এস এ যোগ দিয়েছে এই ব্যাপারটাকে সে ভূল মনে করে না। আমার ধারণা তার ভূল এখনো সে বুঝতে পারচেছ না অথবা সে এতোটাই প্রভাবিত হয়েছে যে এখনো সে নিজের বুঝে উঠতে পারছে না। তার সঠিক টিটমেন্ট প্রয়োজন, আরো প্রয়োজন কাউন্সিলিং।

লেখক || প্রবাসী সাংবাদিক

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More