উপজেলা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পরিকল্পিত রাস্তা হলে খরচও বাঁচে আবার জমিও বাঁচে

59
gb

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব উপজেলা সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা পরিকল্পিত হতে হবে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসস ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে উপজেলা ও ইউনিয়নগুলো- উপজেলায় একটা মাস্টারপ্ল্যান করে দেয়া দরকার। কারণ আমরা দেখি যত্রতত্র দালান হচ্ছে। কারও টাকা হলেই ধানের জমি নষ্ট করে সেখানে দালান করে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো হিসাব-নিকাশ নেই।

তিনি বলেন, আমরা যদি এখন থেকে একটা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করি। কোথায় বসতবাড়ি হবে… যার ভিটেমাটি আছে সেটা আলাদা কথা, কিন্তু চট করেই ফসলি জমি নিয়েই বাড়িঘর করে ফেলে। তেমনি রাস্তা যে যেভাবে ডিমান্ড করছে তেমনই রাস্তা হচ্ছে। এত রাস্তা তো দরকার হয় না। পরিকল্পিত রাস্তা হলে খরচও বাঁচে আবার জমিও বাঁচে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের লে-আউটে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি-খামার, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আমরা যদি যথাযথভাবে এটি করতে পারি, তাহলে জনগণ এটি গ্রহণ করবে।

৬০টি জেলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করেন। যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি।

এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এসএম গোলাম ফারুক এবং মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে তার সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র্য নিরসন করতে সক্ষম হব। দেশকে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক শাসকরা বিজয়ী জাতি হিসেবে জনগণের আত্মশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। এজন্য তারা তাদের নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহী ছিল না। এর ফলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যেখানে ভালো বাসস্থান, খেলার মাঠ, হাসপাতাল, ফসলের মাঠ এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থাকবে। এজন্য আমাদের ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া, জনসংখ্যার দিক বিবেচনা করে নিজস্ব পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কেউই অবহেলা করতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More