যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর ভুক্তভোগী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় (যুক্তরাষ্ট্র সময়) এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতারা—একসঙ্গে বসে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
বর্তমানে নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এনসিপি নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, এ হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও অনুসারীরা।
ঘটনার পর গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানায়, গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন, দেশের ভেতরে বা বাইরে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার আরও জানায়, এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও সরকারি প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারা এটিকে শেখ হাসিনার আমলে গড়ে ওঠা বিষাক্ত ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি করুণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এ সংস্কৃতি ভেঙ্গে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারেই তারা কাজ করছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের সফরকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলকে ভিভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভিসাজনিত জটিলতার কারণে বিকল্প পথে বের হতে হয়।
সরকার দাবি করেছে, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভিভিআইপি সুবিধা বাতিল করায় প্রতিনিধি দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিতে পড়ে।
ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কে বাংলাদেশের মিশন এনওয়াইপিডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন