ফকিরহাটে পতিত জমিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে পেঁপে চাষে উৎসাহ বাড়ছে

62

ফকিরহাট প্রতিনিধি। ।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলকায় বর্তমানে ঘেরের পাড়ে ও পতিত জমিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষীদের পেঁপে চাষে উৎসাহ বাড়ছে। অনেকেই রাসাইনিক সার ও কীটনাশকমুক্ত পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এদের মধ্যে শুভদিয়া ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামের মোঃ মমতাজ উদ্দিন শেখের পুত্র চাষী মোঃ মনিরুজ্জামান শেখ অন্যতম। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে মোঃ মনিরুজ্জামান শেখ জানতে পারেন বেলে-দোআঁশ মাটিতে ও উচু জমিতে পেঁপে চাষ করা সম্ভব এবং এতে রোগ বালইও তুলনামূলক ভাবে কম হয়। তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক ঘেরের পাড়ে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় দুই একর জমি বানিজ্যিক ভাবে পেঁপে চাষে উৎসায়িত হন। এরপর তিনি দেড় একর জমিতে ১৫শত পেঁপে গাছ রোপন করেন। তিনি মাদা পদ্ধতিতে এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহে স্থানীয় উন্নত জাতের পেঁপের চারা রোপন করেন। তিনি জানান কৃষি অফিসের পরামর্শে চারা রোপনের পূর্বে এক ফুট দৈঘ্য ও এক ফুট প্রস্থ গর্ত করে রাসাইনিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও নিম পাতা দিয়ে এক সপ্তাহ গর্ত গুলো ভরে রাখেন। এরপর দেড় মাস বয়সের পেঁপে চারা রোপনের তিন মাস পর গাছে ফুল ধারন করে এবং ধীরে ধীরে ফল ধরতে শুরু করে। চার মাস পর থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হয় বলে তিনি জানান। পাকা ফল অধিক জনপ্রিয় হলেও বিপনন ব্যবস্থার প্রতিক‚লতা থাকায় কাচা ফল সবজি হিসেবে বিক্রি করেন। তিনি মাত্র ৮০হাজার টাকা পেঁপে চাষে ব্যয় করে ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি করেন। একটি গাছ ৩ থেকে ৪ বছর ফল দেয়, তাই তিনি আশাবাদি কোনরুপ বৈরী পরিস্থিত তৈরী না হলে আরও ১৫ লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন। এ ব্যাপারে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ডি: কৃষিবিদ দিপায়ন দাশ বলেন, তিনি পেঁপে চাষী মোঃ মনিরুজ্জামানকে সর্বক্ষনিক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করেন। বর্তমানে বাড়ীর আঙ্গিনায় পতিত জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা স্বল্প পুজি খাটিয়ে বানিজ্যিক ভিত্তিতে স্থানীয় জাতের পেঁপে চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাত জানান, ফকিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় চাষীরা এখন পেঁপে চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি সহ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা করে থাকেন বলে জানান।

মন্তব্য
Loading...