অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এমপি হলে গোবিন্দগঞ্জে কি কি করবেন

63

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা //

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২, গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে গোবিন্দগঞ্জের জন্য কি কি করবেন ভিজিটরদের জন্য তুলে ধরা হলো:- রাজনীতি ধ্যানজ্ঞান মনে করে গণমানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণ বন্ধ করে। দলমতের ঊর্দ্ধে উঠে জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য শঙ্কামুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসযোগ্য আধুনিক, তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ গোবিন্দগঞ্জ উপহার দেওয়ার ব্রতকে প্রথম এবং প্রধান অঙ্গীকার করে ছুটে চলছেন তিনি। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে উপজেলাবাসীর স্বপ্নের গোবিন্দগঞ্জ গড়ে তোলার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন উল্লেখ করে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এমন গোবিন্দগঞ্জ গড়ে তুলতে চান যাতে উপজেলাবাসী সারাদেশে গর্ব করে বলতে পারে আমি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। আমার দেশের বাড়ী গোবিন্দগঞ্জ। একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের অন্যতম বসবাস উপযোগী জনপদ হিসেবে গড়তে চান গোবিন্দগঞ্জকে। মানসম্মত শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, জনকল্যাণ, যোগাযোগ, সংস্কৃতি সবক্ষেত্রে রাখতে চান বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ছোঁয়া। গড়তে চান শিক্ষিত কর্মসংস্থানের জন্য উত্তর জনপদের একটি স্বনির্ভর উপজেলা। গোবিন্দগঞ্জকে অসাম্প্রদায়িক জনপদের পীঠস্থানে উপনীত করতে নিবেন উপযুক্ত ব্যবস্থা। বিএনপিকে কিভাবে সংগঠিত করবেন এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৩ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পর থেকে শুরু করে অদ্যবধি বিএনপির একজন সৈনিক হিসেবে দলের সেবা করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণে অর্জিত নিজের অভিজ্ঞতাবদ্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় উপজেলা বিএনপি গড়ে তুলবেন বলে তিনি জানান। যে বিএনপি শহীদ জিয়ার ১৯ দফার আলোকে জনকল্যাণমুখী সংগঠনে পরিনত হয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাবাসীর সেবায় আত্বনিয়োগ করবে। বিরোধী দলকে কিভাবে মোকাবিলা করবেন এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, বিএনপির প্রাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চা করেন না। জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে প্রতিহিংসার কোন স্থান নেই। তিনি এমপি র্র্র্নির্বাচিত হলে বিএনপির একজন সৈনিক হিসেবে গোবিন্দগঞ্জে সব দলের সহ অবস্থান নিশ্চিত করবেন। বিরোধী দল ও নিজ দলে সবার জন্যই মুক্তচিন্তার চর্চা উম্মুক্ত থাকবে। সবাই সাংবিধানিক বাক স্বাধীনতা সভা সমাবেশের অধিকার সহ মৌলিক অধিকার ভোগ করবে। রাজনীতিতে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে তিনি জানান। রুটিন উন্নয়নের বাহিরে কি কি করবেন এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাস্তাঘাট নির্মাণ সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ, ভবন নির্মাণের মত রুটিন উন্নয়ন ছাড়াও কর্মসংস্থানের উপর সবচেয়ে গুরুত্ব প্রদান করবেন। তিনি উপজেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। সেই সাথে উপজেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রংপুর সুগার মিলকে আধুনিকীকরণ করে বছরব্যাপী উৎপাদন নিশ্চিত করবেন। তিনি আরো জানান, কোচাশহর হোসিয়ারী শিল্প সহ উপজেলার গড়ে উঠা বস্ত্রশিল্প ও ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পের উন্নতি ও সম্প্রসারণের জন্য সর্বোচ্চ পৃষ্টপোষকতা করে যাবেন। আইন শৃঙ্খলার উন্নতির জন্য উপজেলার পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করবেন। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে তিনি শিল্প কল কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। যুব সমাজকে বিভিন্ন কর্মমূখী প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলবেন। নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম ট্রেন ভ্রমণ সহজতর করতে মহিমাগঞ্জ স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্টেশন রুপে উন্নীত করবেন। সেই সাথে শালমারা হল্টকে আধুনিকীকরণ করবেন। চিত্ত বিনোদনের জন্য গোবিন্দগঞ্জে সরকারি উদ্যোগে পার্ক প্রতিষ্ঠা করবেন। শিশু কিশোর যুবকদের সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স সহ স্টেডিয়াম গড়ে তুলবেন। সুষম উন্নয়ন কিভাবে নিশ্চিত করবেন এই প্রশ্নের জবারে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, উন্নয়ন বৈষম্যের কোন সুযোগ নাই। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে যেখানে যেরুপ উন্নয়ন প্রয়োজন সেই রুপ উন্নয়ন শতভাগ নিশ্চিত করবেন। একজন এমপি সমগ্র উপজেলার এমপি, তাই উন্নয়ন বৈষম্য করার প্রশ্নই উঠে না। সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সুচিন্তিত মতামতের আলোকে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করার প্রতিশ্ধসঢ়;রুতি ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে সেই সাথে তিনি যদি গোবিন্দগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তবে গোবিন্দগঞ্জকে অসাম্প্রদায়িক উন্নত আধুনিক সর্বোপরি কর্মসংস্থানের উপযোগীর জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

মন্তব্য
Loading...