প্রতারক রিঙ্কু থেকে বউকে সাবধান

234
gb

 মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর :

সাবধান তিনি কোন ব্যাংক কর্মকর্তা নন, তিনি একজন চিহ্নিত প্রতারক। নারী কে পটিয়ে তার যত প্রতারনা। প্রতিটি প্রতারনায় তিনি পথে বসিয়েছেন একের পর এক নারীকে। এখানে সে প্রতিবারই অন্যের স্ত্রীকে ব্যবহার করেছেন। হতে পারে প্রবাসীর স্ত্রী। হতে পারে শিল্পপতির স্ত্রী একের পর এক সে পরকীয়া করেছে। একটি করে সংসার ভেঙ্গেছে আর প্রতিবার শিকার একজন করে নারী। এই ভয়ঙ্কর প্রতারকের নাম গোলাম কিবরিয়া রিঙ্কু। যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী গ্রামে তার আদি বাড়ি। তার পিতার নাম মৃত কুদ্দুস মাস্টার। হতাশা এখানেই। পিতা দেশের অনেক সন্তানকে মানুষ করলেও ব্যর্থ নিজের বেলায়। তার পুত্র মানুষ না হয়ে হয়েছে নারী শিকারী। এই প্রতারক এখন যশোর শহরের বাসিন্দা। তার ঠিকানা যশোর শহরের খড়কী সার্কিট হাউজ পাড়া। প্রতারনার টাকায় বাড়ি করে ঘাটি গেড়েছে খড়কী সার্কিট হাউজ রোডের পরিচিত সৈয়দা ভিলার পাশে। জেলা শরিয়তপুর। সদর উপজেলার ইটালী প্রবাসীর স্ত্রী নাছিমা। তাকে পটিয়ে যে প্রতারনা তার পরিমান ২/১ লাখ নয়। ৩০লাখ টাকা। ইটালী থেকে দেশে এসে ঐ প্রবাসী ভদ্রলোক দেখেন তার স্ত্রী নাছিমা এখন গোলাম কিবরিয়া রিঙ্কু’র স্ত্রী। প্রবাসীর খোয়া গেছে ৩০ লাখ নগদ টাকা। অগত্যা তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নিজে মনোকষ্ট নিয়ে বিদেশে চলে গেলেন। যশোরের চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা বাজারে হোটেল মালিক সামাদের স্ত্রী জলি’র সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খায় রিঙ্কু। তার কপালে জোটে বেধড়ক মারধোর। আহত অবস্থায় সে ঐ রাতেই পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে শশুর বাড়ি ওঠে। শশুর প্রশ্ন করতেই সে জানায় চৌগাছায় বাড়ি করছে সে। সন্ত্রাসীরা চাদা ধরেছে তা না দেওয়াতেই তাকে মেরে সন্ত্রাসীরা আহত করে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। তাদের ভয়ে সে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছেড়েছে। তবে প্রকৃত সত্য এই হোটেল মালিকের এবার খোয়া গেছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর কাছ সে ধার বাবদ এই টাকা কয়েকবারে নিয়েছে। মাগুরা জেলার সদর উপজেলার ইছেখাদা গ্রামে শিউলী বেগমকে নিয়ে সে সম্প্রতি ধরা পড়েছে। শিউলির স্বামী পাবনা ব্রাক ব্যাংকে কর্মরত। শিউলী বেগমকে নিয়ে সে পালিয়ে এসেছে। মাত্র কয়েকদিন আগে ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা দবির স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। এখানে দবিরের জমানো ১৯লাখ টাকা প্রতারনায় আত্মসাৎ করেছে গোলাম কিবরিয়্ধাসঢ়; রিঙ্কু। ব্রাক ব্যাংক সূত্র জানায় এই দুই জন অর্থাৎ রিঙ্কু ও শিউলী দুজনেই ব্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা। ১লা অক্টোবর পর্যন্ত তাদের দুজনেরই ছুটি ছিল। কিন্ত ছুটি শেষে তারা চাকুরিতে ফেরেনি। শিউলী বেগম বর্তমানে খড়কীর আনোয়ার মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা জানায় তারা স্বামী-স্ত্রী। সূত্র আরো জানায় এই দুজন বাঘার পাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজারে একটি ব্রাক ব্যাংক বুথ স্থাপন করছেন। সেখানকার বাসুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদের জমি লীজ নিয়ে এরা বুথ স্তাপন করছে। চেয়ারম্যান জনগনের স্বার্থে বুথ করার জন্য জমি লীজ দিলেও বাস্তবে সকলেই সন্দিহান। কেননা রিঙ্কুর সব কাজ কর্মই যে প্রতারনায় ঠাসা। শুধু যে অন্যের স্ত্রী কে ভাগিয়ে নগদ অর্থ প্রতারনা করেছে তা নয়, নিজ শশুরের কাছে প্রতারনা করে সে কমপে ১০লাখ টাকা প্রতারনা করেছে। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার আদমপুরে তার শশুর বাড়ি। তবে এই স্ত্রীকে তার শশুর কুদ্দুস মাস্টার জীবিত অবস্তায় কখনো মেনে নেয়নি। একটি সূত্র জানায় সিঙ্গাপুরে যাওয়ার নামে সে ঐ টাকা নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছে আর পরের স্ত্রীকে ভাগিয়ে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারী করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী নারী জানান রিঙ্কু খুবই বড় প্রতারক। তিনি তার স্বামীর গচ্ছিত প্রায় ২০ লাখ টাকা নানা সময়ে রিঙ্কুর হাতে তুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি রিঙ্কু তাকে স্ত্রী সাজিয়ে ভোগ করেছে। তার স্বামী তার সবকিছু জেনে তাকে তালাক দিয়েছে। রিঙ্কুও এখন নাগালের বাইরে। তবে তিনি রিঙ্কু কে ছাড়বেননা বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন। সূত্র জানায় রিঙ্কু প্রায় ২০টি প্রতারনা করেছে। এতে তার আয় কোটি কোটি টাকা। এখন সে স্থানীয় পর্যায়ের ২/১জন রাজনৈতিক নেতাকে হাতে রেখে দম্ভোক্তি করছে কেউ তার কোন কিছু করতে পারবে না। মাত্র একদিন আগে ২৩ নভেম্বর সে দুইজন সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। শুধু তাই নয় বিষযটি নিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতা সাংবাদিকদের খোজ খবর নিয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা ঘটনাটি স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি এই গোলাম কিবরিয়া রিঙ্কু কে যারা চেনে তারা প্রত্যেকেই হাসির ছলে বলেছেন ‘ভাই আপনার স্ত্রীকে দেখে রাখবেন নইলে রিঙ্কু যদি জানে আপনার বউ এর কাছে আপনার টাকা জমা আছে তাহলে বউ ও টাকা দুটোই হারাবেন। শুধু বউ হারানোর ভয় নয়, গোলাম কিবরিয়া রিঙ্কু বড় অংকের ঋন বরাদ্দের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে চাকুরি কালীন সময়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয় করেছে। অনেকেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এই অভিযোগে তাকে কয়েক বার শাস্তিজনক বদলী করা হয়েছে। ###