আদালতে স্বামী ও বড়ভাইকে খুনের দায় স্বীকার করে দেবর-ভাবীর জবানবন্দী চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেবর-ভাবীর পরকীয়ায় যুবক খুন

222
gb

 জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবর-ভাবীর পরকীয়ায় নিজ স্ত্রী ও আপন ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ইউসুফ আলী (৩৮) নামে এক যুবক। তিনি সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বালুগ্রাম বন্দের বাগান এলাকার তাইফুর রহমানের ছেলে। গত শুক্রবার (১২অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটলেও গত মঙ্গলবার (১৬’অক্টোবর) চাঞ্চল্যকর এঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়। এঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাফিউর রহমান মঙ্গলবার (১৬’অক্টোবর) সকালে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী মদিনা বেগম (২৬) ও ভাই ইউনুস আলীকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা মঙ্গলবারই রাত ৮টার দিকে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালামের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। এরপর আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইদ্রিস আলী বুধবার (১৭ অক্টোবর) জানান,জবানবন্দীতে পরকীয়া প্রেমের কারণে পরস্পর বিয়ে করার জন্য পরিকল্পিতভাবে স্বামী ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন দেবর-ভাবী। পরিদর্শক ইদ্রিস বলেন,দুই ভাই বিদেশে থাকত। গত আগষ্টে তারা বাড়ি আসে। পাঁচ বছর যাবৎ অবৈধ প্রেমে এমনকি শারিরকি সম্পর্কে লিপ্ত মগ্ন দেবর-ভাবী এরপর কয়েকবার ইউসুফকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। দেবর-ভাবীর প্রেমের ব্যাপারটি ইউসুফ নিজে ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও জানত। কিন্তু এ ব্যাপারে কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দেবর-ভাবী সম্পর্ক বজায় রাখতে দু’ভাইয়ের ঘরের মাঝের দেয়ালের কোনায় কিছু ইট খুলে দু’ঘরে যাতায়াতের একটি গোপন রাস্তা করে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিকল্পনামত ওই পথে বড়ভাইয়ের ঘরে ঢোকেন ইউনুস। তিনি ঘুমন্ত বড় ভাইয়ের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ঠেসে ধরেন। এসময় স্ত্রী মদিনা স্বামীর দু’পা চেপে ধরে রাখেন। এতেই মারা যান ইউসুফ। এর পরেও মৃত্যু নিশ্চিত করতে ইউসুফের গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে আধা ঘন্টা তাঁকে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে বিছানায় শুইয়ে ইউনুস নিজ ঘরে ফিরে য়ান। পরিকল্পনামত ভোররাতে স্বামীর পাশে শুয়ে থাকা মদিনা স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে চিৎকার করলে বাড়ির ও পাশ্ববর্তী লোকজন ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে। ইউসুফের মৃত্যু,গলায় দাগ ইত্যাদি নিয়ে কিছু প্রতিবেশীর সন্দেহ হলেও ইউসুফের পরিবার শনিবার (১৩অক্টোবর) সকালে ইউসুফকে তড়িঘড়ি দাফন করে। ঘটনাটি পুলিশের কানে গেলেও কোন অভিযোগকারী না থাকায় প্রথমে তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পরে এনিয়ে গুঞ্জন বাড়লে তারা ইউসুফের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। গ্রেপ্তার করা হয় দেবর-ভাবীকে। পরিদর্শক ইদ্রিস বলেন, আদালতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে ওঠানোর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। অবিলম্বে ম্যাজিষ্ট্রেট্রের উপস্থিতিতে লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। এছাড়া নিহতের পরিবারের সদস্য,এলাকাবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যহত রয়েছে। ##