পাইকগাছায় ১৪৯ টি মন্ডপে শারদীয়া দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে : সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন

164
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা (খুলনা) \

শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদ উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে একবছর পরে মা আসছেন। ধর্মের গøানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবছর দুগর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন। আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার মহাদেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবল্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা। খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় এ বছর ১৪৯ টি মন্ডপে দুগা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে চলছে ডেকোরেশন ও আলোক সজ্জা সহ শেষ মুহুর্তের কাজ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ১৪৯ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার মধ্যে পৌর সদরে ৭টি, হরিঢালীতে ২০ টি, কপিলমুনিতে ১৯ টি, লতায় ১৩ টি, দেলুটিতে ১৪ টি, সোলাদানায় ১০ টি, লস্করে ১৭ টি, গদাইপুরে ৫ টি, রাড়–লীতে ২০ টি, চাঁদখালীতে ১২ টি এবং গড়ইখালীতে ১২ টি দূর্গা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বারের তুলনায় এবার ৬টি পূজা মন্ডপ বেড়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার মা দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজবে প্রতিটি মন্ডপগুলিতে। সে কারনে প্রতিটি মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের কাজ। আনন্দ ঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে চলছে মন্ডপের সাজ- সজ্জার কাজ। কোথাও কোথাও প্রতীমার শেষ মুহুর্তের রংতুলির কাজ সেরে নিচ্ছেন ভাস্করা। গতবারের ন্যায় এবারেও গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ঘোষপাড়ায় পারিবারিকভাবে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে শিক্ষক লাবণ্য রায় জানিয়েছেন। সরল-কালিবাড়ী কেন্দ্রীয় পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি দেবব্রত রায় জানান, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার মন্ডপে উন্নতমানের লাইটিং করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর দুর্গা পূজা অনেক বেশী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এবং কেন্দ্রীয় পূজা মন্ডপ উপজেলার সেরা মন্ডপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা করছি। এদিকে দূর্গা পূজার মাত্র কয়েকটি দিন বাকী থাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। অনেকেই পোশাক-আশাক সহ প্রয়োজনীয় কেনা কাটার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অপরদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বৃহৎ এ উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বছর উপজেলায় ১৪৯ টি মন্ডপে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার ৬টি পূজা বেশী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কমিটির সভাপতি সমীরন সাধু জানিয়েছেন, যে সমস্ত মন্ডপগুলিতে লোক সমাগম বেশী হয় এবং বাজার কেন্দ্রীক সেগুলিকে অতিগুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তৃপ্তি রঞ্জন সেন জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত উপজেলার কোন মন্ডপে অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানিয়েছেন, প্রতি বারের ন্যায় এবারও উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে উৎসব ও শান্তিমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শারদীয়া দূর্গোৎসব কোনভাবেই যাতে ব্যাহত না হয় এ জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন। সরকারি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রতিবারের ন্যায় এবারও নির্বাচিত এলাকার প্রতিটি মন্ডপে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক জানিছেন।