সৌদি নারীরা আসলে কতটা নিপীড়িত, পরাধীন?

248
gb

শেষ পর্যন্ত দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের অগ্রাহ্য করে সৌদি বাদশাহ সালমান তার দেশের নারীদের গাড়ী চালানোর ওপর বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামনের বছর থেকে সৌদি নারীরা চালকের আসনে বসতে যাচ্ছেন।

সারা পৃথিবীতে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে, বদ্ধমূল ধারণা – সৌদি নারীরা বিশ্বের সম্ভবত সবচেয়ে পরাধীন, নিপীড়িত একটি সমাজ। তারা এমনকী গাড়ীও চালাতে পারেনা।

কিন্তু এই ধারণার ভিত্তি আসলে কতটা শক্ত?

অনেক সৌদি নারী অবশ্য মনে করেন, এটা অনেকটাই পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘গৎবাঁধা’ ধারণা। পুরো চিত্রটা ততটা ভয়াবহ নয়।
সৌদি সাংবাদিক সামার আল মোরগান বলছেন, ” পশ্চিমা গণমাধ্যমে যেভাবে সৌদি নারীদের তুলে ধরা হয়, সেটা পুরোপুরি বাস্তব চিত্র নয়। ”

সৌদি একটি কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক নূরা আর শাবান দাবি করছেন, নিপীড়ন বলতে যা বোঝায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা কখনই অনুভব করেননি। “মনে রাখতে হবে, সৌদি পার্লামেন্টে এখন ৩০ জন নারী সদস্য। ”

কিন্তু তারপরও এই দুই নারীর আশাব্যঞ্জক বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য? সৌদি সরকার বেশ কিছু উদাহরণ সামনে নিয়ে আসতে পারে।

যেমন, সম্প্রতি সৌদি নারীদের ভোট দেওয়ার এবং ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার মিলেছে।

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রি নেওয়া পুরুষের চাইতে নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি।

নারীদের কাজ করতে কোনো বাঁধা নেই। সৌদি নারীরা সাংবাদিক হচ্ছেন, চলচ্চিত্রকার হচ্ছেন , ডাক্তার হচ্ছেন, প্রকৌশলী হচ্ছেন, ব্যাংকার হচ্ছেন, বিজ্ঞানী হচ্ছেন। পুরো উপসাগরীয় আরব অঞ্চলে বায়োকেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রী পাওয়া প্রথম মহিলা একজন সৌদি।

এমনকী অন্যান্য বহু দেশের তুলনায় সৌদি নারীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক বেশি তৎপর।

টুইটারে #WomenStopHarrasser, #26OctDriving, #GirlsConfrontsReligiousPolice এ ধরণের অনেকগুলো পাতায় সৌদি নারীরা খুবই সরব। গাড়ী চালানোর অধিকার আদায়ে তারা কারাবরণ পর্যন্ত করেছেন।

কিন্তু এত কিছুর পরও একজন মানুষ হিসাবে কতটা স্বাধীন সৌদি নারীরা?
উদ্বিগ্ন হওয়ার বহু যথার্থ কারণ এখনও রয়েছে।

প্রথম কথা, কার্যত যে কোনো কাজেই এখনও সৌদি নারীদের একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি দরকার।

নূরা আল হারবি নামে একজন ছাত্রী বলছে, “কিছু আইন অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই আমরা যাতে জাতীয় পরিচয় পত্র পেতে পারি, তা নিশ্চিত করতে হবে। ”

নারী অধিকার নিয়ে গবেষণা করেন হামসা আল সিনৌসি। তিনি বলছেন, এখন একজন সৌদি নারী একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কারাগার থেকে ছাড়া পায়না। ফলে, নারীরা যাতে সংসারে না ফিরতে পারে, তার জন্য অনেক পুরুষ দিনের পর দিন অনুমতি দিতে চায়না।

হামসা সিনৌসি বলছেন, কারাগারে আটকে পড়ে থাকার আতঙ্কে অনেক সৌদি নারী মুখ বুজে গৃহে নির্যাতন সহ্য করেন।
তবে কোম্পানি নির্বাহী নূরা আল শাবান বলছেন, সবসময় পশ্চিমা মিডিয়াতে সৌদি নারীদের শুধু নির্যাতিত হিসাবে দেখানো একবারে ঠিক নয়। “এই একতরফা গৎবাঁধা চিত্র আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে অনেকসময় খাটো করে ফেলে। “