শাহবাগে মানববন্ধন, সমাবেশ ২১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে তা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান

306
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) ৩২টি সংগঠনের পক্ষ থেকে ২১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে তা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

লেখক ও কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির আয়োজনে ছিল বাপা, ডক্টরস পর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, গ্রিনভয়েস, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, ব্লু-প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ, নাগরিক উদ্যোগ, তরুপল্লব, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড এগেইনস্ট রোড অ্যাকসিডেন্টস, সুন্দর জীবন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরম, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, বিসিএইচআরডি, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, ওয়ার্ক ফর গ্রিন বাংলাদেশ, এইচডিডিএফ, সিডিপি, ষোলো আনা ফাউন্ডেশন, প্রভাতী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, যাত্রীকল্যাণ সমিতি, ঘুড়ি ফেডারেশন, এইড ফাউন্ডেশন, ইকো সোসাইটি, হামিম সাজদাহ্, সাইকেলারস অব বাংলাদেশ, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন, স্কেটিং-৭১ এবং নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা।

সমাবেশে ২১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘এটা সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। শিক্ষার্থীরা চায় মানুষ নিরাপদে সড়কে চলাচল করুক। এই আন্দোলনে শুধু শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়, তাদের স্বজনরাও এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন।’ তাই দেশের বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২১ দফায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের চিকিৎসাসহ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ও আচরণকারীদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য প্রতিটি কমিউনিটিতে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।

আরো বলা হয়েছে, চলমান আন্দোলনে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর যুগোপযোগী সংশোধন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পথচারী ও অযান্ত্রিক যানে নিরাপদ চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। যথাযথভাবে ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় সড়ক পরিচালনা ও মেরামত করতে হবে। ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকদের নিষিদ্ধ ও হেলপার দিয়ে গাড়ি চালালে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। পরিবহন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তির বিধান চালু করতে হবে। ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। গাড়ি চালকদের ট্রিপের পরিবর্তে মাসিক বেতনে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়ক ব্যবহারকারী সবার মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ছাড়া যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

দাবিগুলোতে বলা হয়েছে, বিআরটিএ-কে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত এবং কার্যকর করতে হবে। রেল ও নৌ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্ভরতা কমাতে হবে। প্রশিক্ষিত, দক্ষ চালক তৈরি করতে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু করতে হবে। যাত্রী, যানবাহনের মালিক, চালক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পেশাদার চালকের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মালিক পক্ষ থেকে নিয়োগপত্রের ব্যবস্থা করতে হবে।

সর্বোপরি পরিবহন ব্যবস্থা মনিটরিং করতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে স্থানীয় ভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।