বাড়ির কাজেই নিয়মিত ব্যায়াম

1,676
gb

সকালের শান্তির ঘুম ছেড়ে বাড়ির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া খুবই বিরক্তিকর বিষয়। এ কাজ করতে কার মন চায়? কিন্তু এ কাজেই কিন্তু উপকার লুকিয়ে আছে।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদযন্ত্রটাকে সুস্থ রাখতে বাড়ির কাজই যথেষ্ট।

কানাডার এক দল গবেষক তাদের গবেষণাপত্রে জানান, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যায়াম হৃদযন্ত্রটাকে সুস্থ রাখতে পারে। সেই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি এক-পঞ্চমাংস কমিয়ে আনে। কিন্তু ব্যায়ামাগারে গিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আবার বাড়িতে ট্রেড মিল কিনেও দৌড়াতে হবে না। প্রতিদিনের কাজেই এই সুবিধা আদায় করা যায়। বিশেষ করে নারীদের জন্য সুখবর দিচ্ছে এই গবেষণাপত্রটি। যারা গৃহিণী তাদের বাড়ি গোছগাছ করে রাখতে কতোই না পেরেশানি পোহাতে হয়। অথচ এই কাজগুলো করা মানেই কিন্তু ব্যায়ামাগারে গিয়ে আধা ঘণ্টা ব্যায়ামের সমান।

কাজেই যাদের প্রতিদিনের বাড়ির কাজ অত্যাচার বলে মনে হয় তারা এখন থেকে আরো সচেতনভাবে এগুলো করতে পারেন। যে পুরুষরা প্রতিদিন ব্যায়াম করতে পারেন না, তারাও বাড়ির কাজে সহায়তা করতে পারেন। এতে কিন্তু ব্যায়ামই হবে।

এ গবেষণায় ১৭টি দেশের ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের জীবনযাপন বিবেচনায় আনা হয়। আসলে শরীরচর্চা কেন্দ্রে গিয়ে কোন কোন ব্যায়াম করছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কায়িক শ্রমেই ব্যায়াম হয়ে থাকে। তা আপনি যেভাবে ইচ্ছা করতে পারেন। অংশগ্রহণকারীদের ৩ শতাংশেরও কম দৌড়ানো বা সাঁতারের মতো কঠোর ব্যায়াম করে থাকেন। কিন্তু বাকিদের মধ্যে যারা বাড়ির কাজ করেন, তারা ওই তিন শতাংশের মতোই ব্যায়ামের কাজটি বাড়িতেই সেরে ফেলেন।

কানাডার সেন্ট পলস হসপিটালের হৃদযন্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং প্রধান গবেষক স্কট লিয়ার বলেন, জিমনেশিয়ামে গিয়ে ব্যায়াম করা খুব ভালো বিষয়। কিন্তু এর পেছনে নিয়মিতভাবে সময় দেওয়ার সময় আমাদের অনেকেরই নেই। কিন্তু আমরা যদি অফিসে হেঁটে যেতে পারি বা নিজের কাপড়গুলো নিজেই ধুয়ে ফেলি তবে যথেষ্ট ব্যায়াম করা হয়ে গেল।

তার দলের গবেষণায় বলা হয়, সবাই যদি বাড়ির নিয়মিত কাজে হাত লাগান তবে নিয়মিত ব্যায়াম হয়ে যাবে। এতে করে প্রতি ১২ জনের একজনের প্রাণ আর অকালে ঝরবে না। অকালমৃত্যুর হার কমে আসবে ৪.৬ শতাংশ।