ইরানে হামলা চালাতে রাজি হননি মার্কিন সেনা কমান্ডাররা

197
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

যুক্তরাষ্ট্র যদিও ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সামরিক হামলার হুমকি দেয়নি কিন্তু আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে গত দেড় বছরে মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সেনাবাহিনীকে রাজি করানোর জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু আমেরিকার সেনা কমান্ডাররা ইরানে হামলা চালাতে রাজি হননি।’ ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল বাকেরি একথা বলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান হ্যারি জে ক্যাযিয়ানিস সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে এবং এখন যুদ্ধের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান আরো বলেন, ‘এটা আমাদের মেনে নেয়া উচিত যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতি অতীতের কোনো যুদ্ধের মতো হবে না।’ অতীত বলতে তিনি ইরাক, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ এবং এরপর ফের ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সেনাবাহিনী এতটাই দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও দুর্ধর্ষ, যে তারা মার্কিন বাহিনীর বিরাট ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে।’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুই মৌলিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়াতে ভয় পাচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধ কোনো একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ মার্কিন সেনাদের জন্য হবে প্রথম ও নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের আট বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বর্তমানে দেশটি সামরিক দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এছাড়া, ইরান প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তিকে অকার্যকর করা সম্ভব। এ কারণে যুদ্ধ শুরু হলে এর ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী যদি একদিনের জন্যও বন্ধ থাকে তাহলে তেলের মূল্য ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

সম্প্রতি মার্কিন অব্যাহত হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘মি. ট্রাম্প আমরা একটি গৌরবময় জাতি এবং সিংহের লেজ নিয়ে খেলবেন না, এর জন্য কিন্তু আপনাকে অনুতপ্ত হতে হবে।’