সিলেটে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সিলেটবাসীকে ‘শতভাগ নিরপেক্ষ’ নির্বাচন উপহার দেব

269
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

গাজীপুর ও খুলনা সিটির মত পরিস্থিতি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম। সিলেটবাসীকে শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবারও ঘোষণা দেন তিনি। নির্বাচন কমিশনারের দাবি, গাজীপুর ও খুলনায় প্রার্থীরা অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্ট দেননি, উল্টো যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেন প্রার্থীরা। বাস্তবে কোন প্রার্থীর কোন এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তার পরিচয় কিংবা এজেন্ট নিয়োগের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তিনি বলেন, কেন্দ্রে প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করলে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
গতকাল শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮ এর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। নগরীর রিকাবিবাজারস্থ কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নানা অভিযোগ অনুযোগ তুলে ধরেন ৭ মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয়, সে দিকে কমিশনকে খেয়াল রাখতে বলেন প্রার্থীরা। তবে প্রত্যেক প্রার্থীর বক্তব্যে ঘুরে ফিরে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান বিপিএম, এসএমপি কশিনার গোলাম কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, সিলেটের পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আলীমুজ্জামান।
আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিপিবি-বাসদের প্রার্থী কমরেড আবু জাফর, স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের ও বদরুজ্জামান সেলিম। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখ তোফায়েল আহমদ সেপুল, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, একে এম লায়েক, রাজিক মিয়া, ইন্দ্রানি সেন, আসমা বেগম ও হেনা বেগম প্রমুখ।
বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটবাসী কোন অন্যায় সহ্য করে না, আবার কাউকে অন্যায় করতেও দেয় না। অতীতে সিলেটে যেসব কর্মকর্তা অনিয়ম অন্যায় করে গেছেন, তাদের শেষ যাত্রা ভালো হয়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহী না হওয়ার আহবান জানান তিনি।
আরিফ অভিযোগ করেন, পোলিং এজেন্টদের তালিকা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তালিকা দেয়ার আগেই এজেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন ব্যক্তির বাসায় গিয়ে তাদের ব্যাপারে তথ্য উপাত্তের কথা বলে বিভিন্ন সংস্থার পরিচয় দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। আরিফ বলেন, তাদের কর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটে রাজনৈতিক সহাবস্থানের নজির দীর্ঘ দিনের। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য আছেন যারা অতি উৎসাহী হয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেন। সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নগরীর অনেক স্থানে তার পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে মর্মেও অভিযোগ করেন আরিফ।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবে, তাই বলে আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। এখন পর্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে প্রচার প্রচারণা চলছ। এটা সিলেটীদের ঐতিহ্যেরই অংশ উল্লেখ করে কামরান এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের প্রার্থীদের দৃষ্টি দিতে হবে।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন। তবে বেশিরভাগ জায়গা থেকে নগরীর ভেতরে প্রবেশ করা ট্রাকগুলো পোস্টার ছিড়ছে বলে তার কাছে খবর আসছে বলে জানান। তিনি বলেন, অতীতেও সিলেটে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এবার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের মহানগর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ভীতি এবং শংকা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তার কর্মীদের মারধরেরও অভিযোগ করেন জুবায়ের।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেন, নাগরিকরা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশনকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজীপুর ও খুলনার মত যাতে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন না হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
সিপিবি-বাসদের প্রার্থী কমরেড আবু জাফর বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটির নির্বাচন আমাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। সিলেটে যাতে সেটি না হয়, নির্বাচন কমিশনকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের যুব সমাজের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম, তার কর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। র‌্যাব পুলিশ-বিজিবি সবাই থাকবে। প্রয়োজনে অন্য ফোর্সও ডাকা হবে। তবে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের শপথ করে এসেছি। নির্বাচন এলে সরকার বলেন, আর প্রার্থী বলেন সকলেই নির্বাচন কমিশনের প্রতিপক্ষ হয়ে যান। আমরা আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। নিয়ম নীতি মেনে অভিযোগ করেন-আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ করার জন্য অযথা অভিযোগ করলে আমরা বিদেশের কাছে ও ছোট হয়ে যাই। তিনি সিলেটবাসীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার আশ্বস্ত করেন।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে অশান্তি অনেক কমে আসবে। সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রার্থীদের ভূমিকা পালন করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হবে। প্রশাসন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের কোথাও কাউকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে।
এসএমপির কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, পুলিশ আপনাদেরই সেবক। আপনারা আচরণ বিধি মেনে চললে আমাদের কঠোর হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনী নির্বাচন কমিশনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, সিসিক নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না তারা সে বিষয়টি দেখভাল করছে।