সুন্দরগন্জে পুলিশের উপর হামলা গুলিবিদ্ধ -৪ আনছার ক্যাম্পে আগুন . অস্ত্র লুট ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

204
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দ্দা ও লাঠশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানির প্রস্তাবিত সোল্যার প্যানেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণাধীন এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিআর সেল, রাবার বুলেট ও অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। ঘটনার সময় আনসার ক্যাম্পে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে।
এতে চার পুলিশ অফিসার ও দুই কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশত জন আহত হয়েছে। খোয়া গেছে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের দুইটি রাইফেল।
জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরা লের চর-খোর্দ্দা ও লাটশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানি সোল্যার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য ৭’শ একর জমি ক্রয় করেন বেক্সিমকো গ্রুপ। জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসি। মঙ্গলবার বিকালে ক্রয়কৃত জমির দখল নিতে গেলে এলাকাবাসি এর প্রতিবাদ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে এলাকাবাসি সাথে সংঘর্ষ বাধে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ টিআর সেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে থাকলে এলাকাবাসি পুলিশকে ঘিরে ফেলে।
এসময় পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। এতে চার পুলিশ অফিসার ও দুই কনস্টেবলসহ অর্ধশত লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে- এসআই আলম বাদশা, বাবুল, ওয়াহেদ আলী, এএসআই শরিফুল, কনস্টেবল মোজাম্মেল ও সাজ্জাত। আহত এলাকাবাসীরা হলেন- রেজাউল, বাদশা, মোজা মন্ডল, আকরাম, মুক্তি সরফুল, রুবিয়া, আরজিনা, রাজ্জাক, মমিন, মতিয়ার, সালমা, সলেমান, আশরাফুল, আব্দুল হক মন্ডলসহ অন্তত অর্ধশত লোক। এঘটনায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ, উলিপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও পীরগাছাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে আসেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম. গোলাম কিবরিয়াগ সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য এক হাজার একর জমি প্রয়োজন। এজন্য গত বছর থেকে চর খোর্দা ও লাটশালা এলাকায় জমি ক্রয় শুরু করে তিস্তা সোলার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে সেখানে ৭শ’ একর জমি কেনা হয়েছে। ক্রয়কৃত জমিতে এই প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজ চলছে।
মঙ্গলবার বিকেল মাটি কাটা নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী প্রকল্প কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ওই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়াসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গ্রামবাসীদের উত্তেজিত করে তুলতে নিহত হওয়ার খবরসহ নানা গুজব ছড়েয়ে পরে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা পুলিশের উপরেও হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এবিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবী করেন,পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে আছে।