মৌলভীবাজারের চেক জালিয়াতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতে বহাল

289
gb

কোর্ট প্রতিবেদক ||

মৌলভীবাজারের একটি চেক জালিয়াতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের পর শুনানীঅন্তে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
বুধবার (৪ এপ্রিল ২০১৮) দুপুর ১২টায় হাই কোর্টের বিচারপতি আবু তারিক এর ব্রে এ রায় প্রদান করেন।
বিচারপতি তাঁর রায়ে বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ নিম্ন আদালতে প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগকারী এস এম মেহেদী হাসান রুমী ৫০% টাকা উত্তোলন করে নেবেন নিম্ন আদালত থেকে। এবং বাকী ৫০% টাকা মোঃ ময়নুল ইসলামের ৩ মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতের মাধ্যমে বাদীকে বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেন। নিম্ন আদালতের দেয়া কারাদন্ড বহাল রেখে, মোঃ ময়নুল ইসলামকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের আপিল মামলা নং ১৫৫/২০১৮ইং। সিরিয়াল নং ২৭।
আপিল মামলার বাদী মোঃ ময়নুল ইসলামের পক্ষে মামলা পরিচালনা পূর্বক আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জিসান হায়দার।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল অ্যাডভোকেট —।
এস এম মেহেদী হাসান রুমীর পক্ষে মামলা পরিচালনা পূর্বক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মিদুল দত্ত।
অ্যাডভোকেট মিদুল দত্ত রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। কেউ চেক জালিয়াতির চেষ্টা করবেন না। মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারবেন। কিন্তু মুক্তি পাবেন না।
তিনি আরোও জানান, ২০০৮ সালের নিম্ন আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিবাদী মোঃ ময়নুল ইসলাম মামলাটি কোয়াসমেন্টের জন্য উচ্চ আদালতে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ ৬ বছর পর শুনানীঅন্তে পিটিশন মামলাটি খারিজ করে নিম্ন আদালতে বিচার চলবে বলে আদেশ হয়। একই বছর ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতে বিচার কার্য সম্পূন্ন হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাননীয় উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করেন। আপিল মামলা নং ১৫৫/২০১৮ইং। সেই আপিল মামলায় নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালত বহাল রেখেছেন। এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ব্যারিস্টার জিসান হায়দার এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চেক ডিজঅনার মামলা (৮৬/২০০৯) এ রায় দিয়েছিলেন।
সেই মামলায়, মৌলভীবাজারের বহুল আলোচিত ট্রাভেল ব্যবসায়ী, মৌলভীবাজার শহরের সমশেরনগর সড়কস্থ মেসার্স মুনিয়া ট্রেভেলর্স এর মালিক মোঃ ময়নুল ইসলামকে চেক ডিজঅনার মামলার রায়ে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছিলেন আদালত। একই সঙ্গে দন্ডপ্রাপ্ত ময়নুলকে এক লক্ষ নব্বই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে আরোও বলা হয়েছিল জরিমানার অর্থ মামলার বাদী এস এম মেহেদী হাসান রুমীকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য।
সংশিষ্ট নিম্ন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কৃপাসিন্ধু দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০০৮ সালে এস এম মেহেদী হাসান রুমীর কাছ থেকে তার ছোট ভাই এস এম জাহেদুর রহমানকে বিদেশ পাঠানোর জন্য দুই লক্ষ প াশ হাজার টাকা মোঃ ময়নুল ইসলাম নেন। কিন্তু যাত্রীকে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে দুই লক্ষ প াশ হাজার টাকার তিনটি চেক দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে এস এম মেহেদী হাসান রুমীর নামে এক লক্ষ নব্বই হাজার টাকার দুইটি দেওয়া হয়েছিল। অপর একটি চেক দেয়া হয়েছিল এস এম মেহেদী হাসান রুমীর মামা যুক্তরাজ্য প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ডি এইচ এন্টারপ্রাইজের নামে। চেক দিয়ে মোঃ ময়নুল ইসলাম প্রতারণা করেন।
একপর্যায়ে এস এম মেহেদী হাসান রুমী এনআই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনার মামলা করেন মোঃ ময়নুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০৮ইং সালে।
দীর্ঘদিন মামলাটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থিতাবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে মামলাটির শুনানি শেষে নিম্ন আদালতে মামলা চলবে বলে আদেশ হয়। উচ্চ আদালতের আদেশের কপি নিম্ন আদালতে আসলে মামলাটি চালু হয়।
মামলার বাদী এস এম মেহেদী হাসান রুমী জানান, এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এ রায়ে আমি খুশী।