গাইবান্ধায় ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি: পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন

232
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা::

গাইবান্ধা পৌর শহরে ছড়িয়ে পড়া ডায়রিয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা ২০০ শয্যার গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৭২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। একের পর এক রোগী ভর্তি হওয়ায় মাত্র ২০ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ছাড়িয়ে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের শোয়াতে হচ্ছে। আবার অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের করিডোরে। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী, স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে গাইবান্ধা পৌর সভার বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে পৌর শহরের ডেভিড কোং পাড়া, সরকার পাড়া, পলাশপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
তারা জানায়, হঠাৎ করেই বমির সঙ্গে দেখা দেয় পায়খানা। প্রথমে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে বড়িতেই স্যালাইন ও ওষুধ খাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও সুস্থ না হয়ে সমস্যা বেশি হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আক্রান্ত এসব রোগীদের মধ্যে বৃদ্ধ নারী ও পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও রয়েছে।
অপরদিকে, হঠাৎ করে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হতে এবং সচেতনতায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গাইবান্ধা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.এস আই এম শাহীন বলেন,‘ডায়রিয়া বিভাগের শয্যা সংখ্যা ২০টি হলেও এখন তিনগুণের বেশি রোগী থাকায় হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ওষুধ, স্যালাইন বা অন্যান্য উপকরণের কোনও অভাব নেই। ভর্তি রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিস্থিতি মেকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতিও নেওয়া আছে বলে তিনি জানান।’
গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.এ সি সাহা বলেন, ‘ক্রমেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২ জন রোগী। গত ৫ দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন আড়াই আড়াইশ’ রোগী।

তিনি আরও বলেন,‘পরিস্থিতি সামাল দিতে ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা সুবিধা পেতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পাশপাশি ডায়রিয়ার কারণ অনুসন্ধানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে ঢাকা থেকে আসা রোগতত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম। বিশেষজ্ঞ টিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডায়রিয়া কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ঢাকা থেকে আসা পরীক্ষক টিমের সদস্য রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডা. সাজ্জাদুর রহমান বলেন,‘ডায়রিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করতে মাঠ পর্যায়ে রোগীর মলসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে। আপাতত কোনও কারণ বলা সম্ভব নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে, স্বাস্থ্য বিভাগের (আইসিডিআর) একটি টিম ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের একটি টিম মাঠ পর্যায়ে এসে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন।