প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের দেশপ্রেমিক সংগঠকের নাম ড: খন্দকার মোশারফ হোসেন

313
gb

ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু, মানবাধিকার আইনজীবী:: প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের দেশপ্রেমিক সংগঠকের নাম ড: খন্দকার মোশারফ হোসেন । যিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র – রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রজীবনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের ভি পি র পদ অলংকৃত করেছিলেন । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে এম এস সি পাশ করে ১৯৬৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন , একই বছরে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডন গমন করেন এবং ১৯৭৪ সালে পি . এইচ . ডি ডিগ্রি লাভ করেন । ইতিমধ্যে দেশ মাতৃকার মুক্তিসংগ্রাম শুরু হলে ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিলাত – প্রবাসী বাংলাদেশীরা আন্তর্জাতিক প্রচারের ক্ষেত্রে ও দেশের মুক্তিযুদ্ধাদের উৎসাহদানের কাজে এক প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন , আর এই ভূমিকার অগ্রভাগে ছিলেন বাংলার এই কৃতি সন্তান ড. খন্দকার মোশাররাফ হোসেন । প্রবাসে সকল শ্রম ও পেশার মানুষ তথা ছাত্র , শ্রমিক , ব্যাবসায়ী ও চাকুরীজীবি সম্প্রদায়কে ঐক্কবদ্ধ করে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকে বাঙালিদের যৌক্তিক দাবির যথার্থতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন ।
ড. মোশাররাফ হোসেন এর সাথে ছিলেন সহ যোদ্ধা প্রথম আহব্বায়ক মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু ও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সহ অনেক নেতৃবৃন্দ ।

 মহান মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসী বাঙালিদের অসামান্য অবদানের কথা ড. মোশাররাফ হোসেনের লেখা “ মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসীদের অবদান “ বইটিতে বিশদভাবে লিপিবদ্ধ আছে , যাহা মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সংগ্রামের এক অনবদ্ধ ও অসামান্য দলিল হিসাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমরা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝি না “ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের একজন মহান সংগঠকের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হলো না !

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বহু বিদেশীকে দেশে এনে পুরস্কৃত করা হয় , অনেককে দেয়া হয় মরণোত্তর পুরস্কারও কিন্তূ এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্য এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে !কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে ‘ “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘর হইতে দু পা ফেলিয়া , একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু “ ।

তিনি শুধু রাজনীতিবিদই নন একজন সমাজ সংস্কারকও বটে , ওনার প্রতিষ্ঠিত ড.মোশারফ ফাউন্ডেশন এর পরিচালনায় জন্মভূমি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , মাদ্রাসা ও হাসপাতাল অত্র সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য এক অনন্য ভালোবাসার উদহারণ হিসাবে বেঁচে আছে , জাতীয় নেতা ড: মোশাররাফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৬ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে , ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্ববানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন । তিনি ৫ম , ৬ ষষ্ঠ , ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচত হন । সেই সাথে বিভিন্ন সময়কালে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ , জ্বালানি , স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন  করেন  , ড মোশাররাফ হোসেন এর একুশটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ  দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ।
ভূতত্ত্ব বিষয়ে “ Structural Analysis “এর একটি মৌলিক উদ্ভাবনী তার নামে ‘Hossain’s Method ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে । এছাড়াও তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা । ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক , বড় ছেলে খন্দকার মাহবুব হোসেন পেশায় ব্যাবসায়ী এবং ছোট ছেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ।আজ এই মহান স্বাধীনতার মাসে জাতির এই বরেণ্য সন্তানকে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ।