প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে পাঠ দান ব্যাহত

242
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

গাইবান্ধার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৪২৩ জন ও সহকারী শিক্ষক পদে ৩০৪ জন শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এই অবস্থা চলায় শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে করে বিঘিœত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজ ও ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকরা শিক্ষার সঠিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ৪৬৩টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত এক হাজার ৩৮৩ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৯৬০ জন। আর এই পদে শূন্য রয়েছেন ৪২৩ জন প্রধান শিক্ষক। সেগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৬৪ জন, পলাশবাড়ীতে ৭৮ জন, ফুলছড়িতে ৪০ জন, সুন্দরগঞ্জে ৫৭ জন, সাঘাটায় ৪৯ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৮৩ জন ও সাদুল্লাপুরে ৫২ জন।
অপরদিকে জেলায় অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের ছয় হাজার ৭৪০ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ছয় হাজার ৪৩৬ জন। এই পদে শূন্য রয়েছেন ৩০৪ জন সহকারী শিক্ষক। সেগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪৮ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৪৯ জন, পলাশবাড়ীতে ৮৩ জন, ফুলছড়িতে ৩০ জন, সাদুল্লাপুর ২০ জন, সাঘাটায় ৩৮ জন এবং সুন্দরগঞ্জে ৩৬ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকার কারণে বর্তমানে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা বিপাকে পড়েছেন, তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বেশিসংখ্যক ক্লাস নেয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোতে।
কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশে বাড়ি হওয়ার কারণে আমরা প্রায়ই দেখি ছাত্র-ছাত্রীরা হৈ-হুলোড় করে। তখন পাশের কক্ষ থেকে শিক্ষক এসে তাদের পড়া মুখস্ত করতে দিয়ে আবার সেই কক্ষে চলে যান। শিক্ষক সংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার ফলে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে কোন শৃঙ্খলা থাকে না। শিক্ষকরা নিজের ইচ্ছামতো চলেন। এছাড়া একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি দাপ্তরিক কাজ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে পারেন না। এতে করে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়, কেননা তাকে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর ও বিভিন্নস্থানে যেতে হয়।
এসব বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই সেখানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ার কারণে পদগুলো শূন্য হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শূন্য পদের তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে- আশা করছি আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যা থাকবে না।