চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৬ দিন থেকে বাংলাদেশী আমদানীকারকদের পাথর আমদানী বন্ধ রাখার জেরে ভারতীয়দের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৬ ঘন্টা সকল পণ্য রপ্তানী বন্ধ রাখার পর পূনরায় চালু

286
gb

 

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ভারতীয় পাথর আমাদানীর প্রধান রুট চাঁপাইনবাবগঞ্জেরসোনামসজিদ স্থলবন্দর পথে গত ১৬ দিন যাবৎ ভারতীয় পাথর আমদানী সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে।অব্যহত লোকসানের মুখে আমদানীকারকদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারী
থেকে পাথর আমদানী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার জেরে সৃষ্ট জটিলতায় সোমবার সকাল থেকে ৬
ঘন্টা ভারতীয়রা বন্দরে সকল পণ্য রপ্তানী বন্ধ রাখে। তবে দুপুর আড়াইটা থেকে আবারও রপ্তানীচালু হয়। তবে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত ১’জানুয়ারী ও গত রোববারসন্ধ্যায় সোনামসজিদ বন্দরের বিপরীতে ভারতের মোহদীপুর স্থলবন্দর এক্সপোটার্স
এসোসিয়েসনের সভাপতি নিখিল ঘোষ স্বাক্ষরিত দুটি পত্রে আমদানীকারকেরা অগ্রিমরাজস্ব পরিশোধ করে আগের নিয়মে পাথর না নিলে এ পথে সকল পণ্য রপ্তানী বন্ধ করার কথাজানায়। কিন্তু আমাদনীকারকেরা আগের নিয়মে লোকসান টেনে পাথর নিতে নারাজ। তারা
বলছেন, ভারতীয় রপ্তানীকারকরা পাথর সরবরাহে বাংলাদেশী আমাদনীকারকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রেঅসহযোগীতা ও ব্যবসায় লোকসান পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় আমদানীকারকেরা পাথরআমদানী বন্ধ রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী
রপ্তানীকারক গ্রæপের বৈঠক আহব্বান করা হয়েছে। সংগঠনের অফিস সচিবমোখলেসুর রহমান,বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েসন সভাপতি হারুনুর রশিদ ওপাথর আমাদানীকারকরা পাথর নিয়ে বন্দরে জটিলতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তাঁরা জানান, বাংলাদেশে পদ্মা সেতু সহ বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পে অত্যাবশ্যকীয়নির্মাণ উপকরণ পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকায় অগ্রিম রাজস্ব পরিশোধ সহ ভারতীয়দেরবিভিন্ন সুবিধে সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে যাতে দ্রæত ও বেশী সংখ্যক পাথরের গাড়ীপ্রবেশ করে। কিন্তু তারা রপ্তানীতে বিভিন্নভাবে দীর্ঘসুত্রিতা সৃষ্টি করছেন। তাঁরাযেসব ট্রাকে পাথর পাঠান সেগুলি এত নি¤œমানের যে প্রায়ই অচল হয়ে পড়ে। গাড়ীতেসহকারী (খালাসী) থাকেনা। ফলে আমদানী সময় বেশী লাগে। এতে আমদানী খরচ বেড়ে
প্রতিদিন বাড়তি লোকসান গুনতে হয় আমদানীকারককে। ফলে বিভিন্ন প্রকল্পে সরবরাচুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায় লোকসান হয় প্রতিনিয়ত বাড়তি বাজারের পাথর ব্যবসায়ীদের।আবার ইদানিং ভারতীয়রা একটি নতুন শুল্ক চালু করেছেন যার টাকা অয়ৌক্তিকভাবে
পরিশোধ করতে বলছেন আমদানীকারকদের। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ধুলো-মাটি মিশ্রিত
নি¤œমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগ পুরোনো। এতেও আমদানীকারকেরা পরিমানে ওবিভিন্ন স্থানে সরবরাহে লোকসানের সম্মুখীন হন। ধুলো মিশ্রিত পাথর গতকয়েকমাস থেকে তারা টন হিসেবে রপ্তানী করছেন। এতেও আমদানীকারকদের লোকসান।
ফলে আমদানীকারকেরা পূর্বের ন্যয় ঘনফুট হিসেবে পাথর নিতে চান। তাঁরা বলেন,কাস্টমস কমিশনাররের সাথে আলোচনা করে প্রায় ৮ মাস পূর্বে পাথর আমদানীতেঅগ্রিম রাজস্ব পরিশোধ ব্যবস্থ চালু করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ পদ্ধতিতে রপ্তানীকারকদের লাভহলেও আমদানীকারকদের সুবিধে হয়নি। ফলে আমাদানীকারকেরা এখন প্রচলিত নিয়মেএলসি খোলার পর গাড়ী ঢুকলে নীরিক্ষার পরই রাজস্ব পরিশোধ করে গাড়ী নেবার পক্ষে। এমনপরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সাথে বারবার বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও কোন ফল হয়নি।
আমদানীকারকদের কোন দাবীই মানতে নারাজ ভারতীয়রা। এমতাবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারীভারতের মোহদীপুর বন্দরের এক্সপোটার্স এসোসিয়েসনকে দাবী দাওয়া নিয়ে পত্র দেওয় হয়।এরপরও তারা কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ২১ জানুয়ারী থেকে বন্দরে পাথর আমদানী সম্পুর্ণবন্ধ করে দেন আমদানীকারকেরা। ফলে খালি হয়ে গেছে পাথরের ইয়ার্ডগুলি। দেশের
বিভিন্নস্থানে পাথর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়েপড়েছেন। অপর দিকে ভারতের মোহদীপুর বন্দরেও কয়েক হাজার পাথরের গাড়ী আটকে গেছে।স্বাভাবিক অবস্থায় এ পথে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে আড়াইশ গাড়ী পর্যন্ত পাথরআসে।