কটিয়াদী হাসপাতালের ৩১ পদ ১৮ শূন্য ৪জন ডেপুটেশনে

389
gb

  ৯ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। দূর্ভোগ চরমে

রুহুল আমীন রাজু, কিশোরগঞ্জ ||

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১টি পৌর ও ৯টি ইউনিয়নের ৪লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল, ৪টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। সব মিলিয়ে অত্র উপজেলায় চিকিৎসা সেবার জন্য ৩১জন ডাক্তারের পদ থাকলেও ১৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৩ জন ডাক্তারের পোস্টিং আছে। তার মধ্যে ৪জন ডাক্তার ডেপুটেশনে রাজধানী ঢাকা কিংবা তাদের সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। শুধু বেতন ভাতার সময় আসেন অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে এ অবস্থা। ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বি ত হচ্ছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা ছুটে যাচ্ছেন শহরের কোন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে। অথবা অপেক্ষায় থাকেন শুক্রবারের জন্য। প্রতি শুক্রবার সকালে অতিথি পাখিরমত কিছু ডাক্তার আসেন বিভিন্ন ক্লিনিকে আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই চলে যান। সেখানে চিকিৎসা করাতে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ব্যয় হয়ে যাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল জায়গা জমি বা যৎসামান্য সি ত অর্থ। খবর বাপসনিঊজ।
জানা যায়, ৪টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ডাক্তার শূন্য। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো বেশীর ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে রয়েছেন একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক ও চারজন মেডিকেল অফিসার, দুই জন কনসালটেন্ট ও একজন ইউনানী ডাক্তার। এই ৯জনকে দিয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা। ডেপুটেশনে ঢাকা সোহরাওয়াদী হাসপাতালে আছেন ডেন্টাল সার্জন শারমীন শরীফ, মেডিকেল অফিসার আয়েশা, আতিকুর রহমান এবং ডা. আসাদুজ্জামান আছেন শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতাল মাতুয়াইলে। অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মটাই এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। বহি:বিভাগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিজ কক্ষে কোন ডাক্তার থাকেন না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন। সকাল দশটার পর নিজ কক্ষে বসেন আবার ১২টার পূর্বেই কক্ষ ত্যাগ করেন। দেড় থেকে দুই ঘন্টার বেশী কখনও কোন ডাক্তারকে তাদের কক্ষে দেখা যায় না। ফলে চিকিৎসা নিতে হলে বাধ্য হয়েই তাদের ব্যক্তিগত চেম্বারে মোটা অংকের ভিজিট দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। তার উপর রয়েছে নানা পরীক্ষা নিরিক্ষা। হউক প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয়।
কটিয়াদী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: তপন কুমার দত্ত অত্র হাসপাতালে ১৫-১৬ বছর যাবত কর্মরত আছেন। মেডিকেল অফিসার হিসাবে যোগদানের পর দু’এক বার অল্প সময়ের জন্য জেলার অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী হলেও কিছুদিন পরেই আবার বর্তমান কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসাবে যোগদানের পর থেকে অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ডাক্তার বেশী থাকলে উনার প্রাইভেট প্রাকটিস কমে যায়। তিনি অধিকাংশ অফিস সময়ে বিভিন্ন মিটিং, সভা সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অফিস সময় পার হলে প্রাইভেট প্রাকটিসে মনোনিবেশ করেন। নানা অভিযোগের কারণে ৩-৪ মাস পূর্বে তিনি ওএসডি বদলী হয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে আছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা.তপন কুমার দত্ত বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও এখনও প্রশাসনিক অনুমোদন হয় নাই। ফলে শুধু ডাইট ৫০ শয্যা হিসাবে চলছে। কিন্তু ৩১ শয্যা হিসাবে ১৮টি পদের বিপরীতে ১৩জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ৪জন ডেপুটেশনে অন্যত্র আছেন। ৩৩তম বিসিএস এ নিয়োগকৃত ৩১জন ডাক্তার (সংযুক্তি) পদায়ন হলেও পরবর্তীতে বাকীদের অন্যত্র নিয়মিত করণ করা হয়েছে। ডাক্তার সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নিয়মিত উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আসছি।