ফ্লোরিডায় ইরমা আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হলো ৫৬ লাখ মানুষকে

174
gb

‘ক্যাটাগরি পাঁচ’-এর ঝড় হয়ে গতকাল শনিবার ভোরে কিউবার উত্তর উপকূলে ঢুকে পড়েছে হারিকেন ইরমা। এ বার লক্ষ্য ফ্লোরিডা। এ কারণে ফ্লোরিডা উপকূল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫৬ লাখ বাসিন্দাকে। এর মধ্যে কয়েক হাজার ভারতীয়ও রয়েছেন।

কিউবার ক্যামাগুয়ে দ্বীপপুঞ্জে ইরমা আছড়ে পড়তেই প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ মাইল বেগে হাওয়া বইতে শুরু করে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠে, নুয়ে পড়ে গাছপালা। সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টি। নামছে ধস। ইতিমধ্যেই পূর্ব ক্যারিবিয়ানে এই ঝড়ে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতির খবর আসা বাকি বলেই আশঙ্কা।

মার্কিন জরুরিকালীন পরিষেবার প্রধান ব্রক লং জানিয়েছেন, অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে উপকূলীয় ফ্লোরিডা সহ গোটা দেশ।

আলবামা থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা সবাইকেই সতর্ক করা হয়েছে। ভার্জিনিয়া ও আলবামাতেও জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়েছে। ঝড়ের গতিমুখ পশ্চিমে হলেও নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর আগামী সপ্তাহে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও হড়পা বানের জন্য মানুষকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

এক ভিডিও বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ধ্বংসের নতুন ইতিহাস তৈরির ক্ষমতা রাখে ইরমা। ’’ তিনি সরকার ও প্রশাসনের পরামর্শ মতো চলার জন্য অনুরোধ করেছেন সকলকে।

জানা গেছে, দিনের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ত্রাণখাতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১৫২৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছেন। জাতীয় বন্যা বিমা প্রকল্পের সময়সীমা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্তও বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

এও জানা গেছে, পাম বিচে ট্রাম্পের বিলাসবহুল এস্টেটও খালি করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রণালয় জানায়, হারিকেন-পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কথা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও। যে কোনও পরিস্থিতিতে সব রকমের সাহায্য পাবেন আটকে পড়া ভারতীয়রা।

অবশ্য আমেরিকার ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, কিউবায় বর্ষণের পর সামান্য শক্তিক্ষয় হয়েছে ইরমার। সে এখন ‘ক্যাটেগরি ৪’-এর ঝড়। কিউবা-র ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও বিশদে জানা যায়নি।