নকল বিদেশি ইলিশে বিপদ, কর্মক্ষমতা হারাবে লিভার-কিডনি

563
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক || দেখতে ইলিশের মতো কিন্তু ইলিশ নয়। বরং এগুলোতে রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উচ্চমাত্রার ভারী ধাতু। কলম্বো ও চন্দনা নামের এমন মাছ দেদার আমদানি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং দেশের বাজারে ইলিশ নামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা এসব মাছ ল্যাব টেস্ট ছাড়াই বন্দর থেকে ছাড় করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের নামে! এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছে, এসব মাছ মারাত্মক অনেক রোগেরও কারণ হচ্ছে। এক নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, আমদানি করা কলম্বো (স্বাদ) মাছে প্রতি কেজিতে সহনীয় মাত্রা ক্যাডমিয়াম দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম কিন্তু মিলেছে প্রায় তিন গুণ বেশি—দশমিক ৬৯ মিলিগ্রাম, সিসার সহনীয় মাত্রা দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৬৩ মিলিগ্রাম। চন্দনা (গিজার্ড স্বাদ) মাছেও সিসা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৫৫ মিলিগ্রাম।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছাড় হওয়া বেশ কিছু সামুদ্রিক মাছের চালান ঢাকার নামকরা ল্যাবে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। সেখানে এই দুই মাছে ক্ষতিকর পদার্থ পায় উচ্চমাত্রায়। এর পরই কর্তৃপক্ষ গত ১ জানুয়ারি এক চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা সব মাছ বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও সরকারের যুগ্ম সচিব মাহবুব কবীর চিঠিটি দিয়েছেন ‘আমদানি করা সব মাছে অতিমাত্রায় হেভি মেটাল বিশেষ করে সিসা বা লেড, ক্রোমিয়াম ও মার্কারি পাওয়া যাচ্ছে, যা জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমদানি করা সব মাছ খালাসের আগে অ্যাটমিক এনার্জি, বিসিএসআইআর ঢাকা, ফিশ কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব, ঢাকা থেকে পরীক্ষা করে নির্ধারিত মাত্রায় পাওয়া গেলে খালাসের অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ মাহবুব কবীর বলেছেন, ‘এর আগে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপের পর থেকেই মাছে ও ফলে ফরমালিন আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি চালানের শতভাগ পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করব। যদি দেখা যায় আর ভারী ধাতুর উপস্থিতি মিলছে না, তাহলে এই আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।’

চিঠি পাওয়ার পরের দিন ২ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এক অফিস আদেশ জারি করে শতভাগ চালান পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার বায়েজিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এর পর থেকে গত দুই দিনে এই ধরনের মাছের কোনো চালান শুল্কায়নের জন্য বিল অব এন্ট্রি জমা পড়েনি। যদিও অনেক চালান বন্দরে রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের হিসাবে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দুই বছরে ৫২৯ কোটি টাকার মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সাড়ে ৪৭ হাজার টন সামুদ্রিক মাছ আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য ১৩২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকার শুল্ক পেয়েছে সাড়ে ৭২ কোটি টাকা। আর ২০১৭ সালে আমদানি কিছুটা বেড়ে সাড়ে ৪৮ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। এই মাছের মূল্য ২১১ কোটি টাকা আর শুল্ক ছিল ১১৪ কোটি টাকা।