কক্সবাজারে পর্যটকের মিলনমেলা

থার্টিফার্স্টে নেই ধুমধাড়াক্কা

1,387
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক ||এবার কক্সবাজারের আকাশে দেখা মেলেনি ২০১৭ সালের শেষ সূর্য। বৈরি আবহাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।এবার সৈকতের বালিয়াড়িতে সাংস্কৃতিক কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। থার্টিফার্স্ট উপলক্ষেও সৈকতে বসেনি কোনো জমজমাট আসর। তবুও কক্সবাজারে কমতি ছিল না পর্যটকের। পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠে সৈকতসহ পর্যটন জোনগুলো। ধুমধারাক্কার কোনো উৎসব না হলেও মানুষের মিলনোৎসব হয়েছে সৈকতে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের গান নেই, জনপ্রিয় ব্যান্ড দলের গিটারে বাজেনি সুর। বিশাল মঞ্চে দেখা মেলেনি কোনো দেশের তারকা শিল্পী। আলোকিত হয়নি সমুদ্র সৈকত। রাত ১২টা পর্যন্ত গানের তালে তালে নাচার কোনো সুযোগও হয়নি।এবার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও উৎসব মঞ্চ হয়নি। দীর্ঘদিনের চিত্র যেন পাল্টে গিয়ে নিরবেই সৈকতে বসে হাজারো মানুষের মিলন মেলা।

রবিবার ছিল ২০১৭ সালের বিদায়ের দিন। পুরোদিনই ছিল মেঘে ঢাকা আকাশ। সূর্যের দেখা মিলেনি। বিকাল থেকেই পর্যটকের স্রোত নামে সৈকতমুখী। কিন্তু সন্ধ্যার পর পাল্টে যায় আবহাওয়া। আকাশ ভেঙে নেমে আসে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এমন বৈরি আবাহাওয়া সত্বেও কক্সবাজারে পর্যটকরা অনাবিল আনন্দ আর উৎসাহ-উদ্দীপনায় পুরনো বছরকে বিদায় জানাতে ভীড় করে সৈকতে। কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে মন রাঙিয়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণ করেছেন  প্রায় ৩ লাখ মানুষ।ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রী তসলিমা ইসলাম জানান, এবার উন্মুক্ত মঞ্চে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না, এটার জন্য আক্ষেপ নেই। নাচ-গান দেখার জন্য এখানে আসা হয়নি। প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দরের টানে কক্সবাজারে আসা। ‘এদিকে টেকনাফ, সেন্টমার্টিন্স, ইনানী আর কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে ৩ লক্ষাধিক পর্যটক। পর্যটকে টইটুম্বর এখন কক্সবাজার জেলা। গেল কয়েকদিনে ঠাঁই নিয়েছেন তারা। গত ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের বড়দিনের ছুটি, শীতকালীন অবকাশ, ইংরেজি বর্ষকে বিদায়-বরণসহ সরকারি বিভিন্ন ছুটি উপভোগ করতে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন প্রায় ৩ লাখ পর্যটক। অনেকে রুম না পেয়ে উঠেছেন আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। অনেকে রাত্রি যাপন করছেন ভাড়া করা বাসে। কক্সবাজারের পর্যটন স্পটসমূহে দাপিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এমন ব্যবসা পুরো জানুয়ারি জুড়েই থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজারের হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ এবং তারকা মানের আবাসিক হোটেলসমূহ আগাম ভাড়া হয়ে গেছে। পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই অভাবনীয় ব্যবসার কারণে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে। বেশি টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো হোটেলের কক্ষ। অনেকে রাত কাটাচ্ছে নিজস্ব পরিবহনে।সাগর পাড়ের তারকা মানের হোটেল সী গালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ইমরুল ইসলাম ছিদ্দিকী রুমি জানান, আমাদের হোটেলের সব কক্ষ অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে। বিশেষ করে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কক্ষ খালি নেই। পর্যটকদের আর্কষণে ইতিমধ্যে হোটেলকে নানাভাবে সাজানো হয়েছে। ইনডোরে নানা অনুষ্ঠান থাকছে পর্যটকদের জন্য।এদিকে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. রায়হান কাজেমী জানান, আমরা প্রতিবছর পর্যটকদের নিরাপত্তায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করি এ বছর ও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ তিন স্তরের পুলিশ মাঠে থাকবে।