গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ

410
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়াপমী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় সাক্ষিদের জবানবন্দির আলোকে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি আইনি ব্যাখ্যাসহ যুক্তিতর্ক শুনানি করবেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান।গতকাল বুধবার তিনি টানা ২৫ দিন যুক্তিতর্ক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন ও আসামি পক্ষের ২৯ জন সাক্ষির সাক্ষ্যের আলোকে তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন। গতকাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমানে সক্ষম হয়েছে। আগামী ধার্য তারিখে আইনগত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২২৫ জন সাক্ষির সাক্ষ্যের অংশ বিশেষ যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানে এটি যথেষ্ট। আসামিদের পক্ষ্যে সাফাই সাক্ষিদের সাক্ষ্য তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, ওদের সাক্ষ্য আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানে সহায়তা করবে।রাজধানীর পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেত কেন্দ্রী কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিশেষ এজলাসে এই বিচারকার্যক্রম চলছে।বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন বিচারকাজ পরিচালনা করছেন। গতকাল শুনানি শেষে আদালত আগামী ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।প্রধান কোঁসুলি যুক্তিতর্কে বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার আসামিদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূণ্য করা, দেশকে অস্থিতিশীল ও জাঙ্গিরাষ্ট্রে পরিনত করা।এ পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এজাহার, বিভিন্ন কর্মকর্তার তদন্ত, বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার ঘটনা, আসামিদের পালিয়ে যাওয়া, পালিয়ে যেতে সহায়তা করা, ঘটনার পর নিরাপত্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া ও আসামিদের স্বীকারোক্তি তুলে ধরেন। বিভিন্ন আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তুলে ধরেন। ২১ আগস্ট ঘটনার পূর্বে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সভা, সভাস্থল, জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমান সাক্ষ্যের আলোকে যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়।যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, বিভিন্ন সরকারী ও প্রশাসনিক সহযোগিতার তথ্য-প্রমান পেশ করেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয় ভবন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু’র সরকারী বাসভবনসহ য়ড়যন্ত্রমূলক সভার স্থানসমূহ তথ্য-প্রমানের আলোকে তুলে ধরেন।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগীদের পরিচালিত বিভিন্ন তৎপরতার তথ্য যুক্তিতর্কে পেশ করেন। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে নিরীহ জজমিয়া সহ অন্য নিরীহদের মামলায় সম্পৃক্ত করার সঙ্গে দায়ী আসামিদের বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন।গতকাল প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঞা, আবুল কালাম আজাদ, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কাজী ইলিয়াসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে বিভিন্ন আইনজীবী আদালতে আজ উপস্থিত ছিলেন।