মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে : মোস্তফা

30

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আগে বন্ধ করলে আজ মেজর সিনহাকে অকালে প্রাণ দিতে হতো না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না এ ঘোষণা সরকারকেই দিতে হবে। মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যে নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে তা এখনই প্রতিরোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

রবিবার (৯ আগস্ট) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিনের  প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আবদুর রহমান তপন ফাউন্ডেশন-আরট আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়্ যে যেখানেই থাকুন না কেন রাষ্ট্রের ও রাজনৈতিক দলসমূহের উচিত তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও সাদামাটা জীবনের অধিকারী।

তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ উপলব্ধি থেকেই কক্সবাজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনা ও পুলিশবাহিনী প্রধান নজীরবিহীন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের উৎস বন্ধ করা না গেলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েই আরও বিপদাপন্ন হবে।

তিনি কক্সবাজার হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ তথ্য জনগণকে অবহিত করা ও দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরট নির্বাহী সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম এ জলিল, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সাবেক ছাত্র নেতা মো. আবদুর রশিদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙ্খিত শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ আজও প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দনি ১৯৫৪ সালে ১জুলাই সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারের হলিমপুরে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম সারকুম আলী সেই সময় সমাজসেবা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।

মো. আলাউদ্দিন নারায়নগঞ্জের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিরউদ্দিন খোকা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ দুলালের বোনকে বিবাহ করার সুত্রেই জীবনের শেষ দিকে নারায়নগঞ্জের দেওভোগে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট বাধ্যক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আবদুর রহমান তপন ফাউন্ডেশন-আরট’র প্রতিষ্ঠাতা চেযারম্যান আবদুর রহমান তপনের প্রিয় পুত্র আবদুল্লাহ নানা মো. আলাউদ্দিন শেষ জীবনে নাতিকে নিয়েই কাটিয়েছিলেন।

সভায় বিশেষ মোনাজাতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিনের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সাথে আরট চেয়ারম্যান আবদুর রহমান তপন, তার কণ্যা যারিন তাসনীম রহমান তনি, নাতনি জুনায়রা সারওয়ার নাশরাহ’র রোগ মুক্তি ও সুস্থতা কামনা করা হয়। বর্তমানে তিনজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।