মানব সেবার পাশাপাশি ক্ষুধার্ত পশুপাখিদের প্রতিও সহানুভূতি থাকা জরুরীঃ মানিক

মানবতার পাশাপাশি প্রাণীদের প্রতিও সহানুভূতি ও ভালবাসা থাকা জরুরী

270
gb
5

সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা || 

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশ এখন প্রায় স্থবির। শহুরে কোলাহল আর যান্ত্রিকতার সাথে মানিয়ে নেওয়া পুরান ঢাকাবাসীর কাছে এখন অচেনা হয়ে যাচ্ছে প্রানের এই নগরটি। রাস্তাঘাট ফাঁকা, হোটেল বন্ধ, মার্কেট বন্ধ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তাই খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়ে পড়েছে কর্মহীন। শহরের দোকানপাটেও শক্ত তালা আঁটা।শুধুমাত্র ওষুধ আর খাবারের দোকান রয়েছে খোলা ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের দোকানগুলোর একই হাল। নিথর পথে বিনা প্রয়োজনে কেউ বেরোচ্ছেন না। বাড়িঘরের দুয়ারগুলোও প্রায় বন্ধ। কিন্তু এই শহরে চির চেনা মানুষ ছাড়াও রয়েছে অনেক প্রাণির বাস। কুকুর, বিড়াল, কাকসহ নানান পাখি।যাদের জীবন বাঁচে আমাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে। তারা এখন কী খাচ্ছে? কেমন কাটছে তাদের জীবন? এই ভাবনা হয়তো অনেকের মনে নাড়া দিচ্ছে। কেঁউ হয়তো এগিয়ে আসছেন তাদের জন্য, কেঁউ হয়তো  এখনো ভাবছেন।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে এসএমএস’র মাধ্যমে অসহায় ও গৃহবন্দী নিম্ম আয়ের লোকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সপ্তাহের বাজার পৌঁছে দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান মানিক। পাশাপাশি কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে গভীর রাতে পুরান ঢাকার লালবাগ-পলাশী-আজিমপুর এলাকার রাস্তা ও অলিগলিতে অনাহারী কুকুর ও বিড়ালদের মাংসের উৎছিষ্ট, ভাত, পাউরুটি, বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন। শুধু তাই নয় তিনি ফুটপাতে বসবাসরত অসহায় মানুষ ও রিক্সা চালকদের চালডালসহ সাধ্য মতো আর্থিক সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।

কাউন্সিলর মানিক জিবি নিউজকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ২৬ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণের কথা চিন্তা করে তাদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো পালন করার চেষ্টা করছি। আমি এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছি।  নিজের সাধ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কুকুর, বিড়ালদের খাবার দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানবতার পাশাপাশি ক্ষুধার্ত প্রাণীদের প্রতিও সহানুভূতি ও ভালবাসা থাকা জরুরী। সৃষ্টিকর্তা এদেরকে মানুষের কল্যাণে রেখেছেন। এদেরও হক আদায় করতে হবে আমাদেরকে। অনাহারী কুকুর, বিড়ালদের জন্য মন কাঁদে । আমি বিশ্বাস করি, মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টির লালন-পালনকর্তা । তিনি সব প্রাণীর রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। হয়তো আমি আপনি বা যে কেউ উসিলা হতে পারি।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দরিদ্র মানুষরা যেমন কষ্ট পাচ্ছে তেমনই কষ্ট পাচ্ছে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুর-বিড়ালগুলো । মানুষ তো ক্ষুধা লাগলে বা যে কোন প্রয়োজনের কথা বলতে পারে কিন্তু কুকুর-বিড়ালগুলো কি বলে?  বলতে পারেনা।শুধু মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের এই নিরব ভাষা হয়তো কেউ বুঝতে পারে, কেউ পারেনা। আমি লক্ষ্য করলাম ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, তারপরেই এই উদ্যোগ নিয়েছি । আমার এলাকা ও তার আশেপাশের অসহায় ও গৃহবন্দী নিম্ম আয়ের মানুষ ও অনাহারী প্রাণীদের কিছুটা সেবা করতে পারি তাহলে মনে শান্তি পাই। এছাড়া আমার ওয়ার্ডের কিছু নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার আছে যারা চক্ষু লজ্জায় কাউকে সমস্যার কথা বলতে পারেন না তাদেরকে এসএমএস’র মাধ্যমে গোপনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সপ্তাহের বাজার পৌঁছে দিচ্ছি

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন