করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি চীনের জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষাগার থেকে!

114
gb

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি শোহাম বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস চীনের একটি গোপনীয় জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষাগার থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষণাগারটি উহান শহরে অবস্থিত বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। ড্যানি শোহামের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস।

ড্যানি শোহাম চীনের জীবাণু অস্ত্র বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তার দাবি, ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চীনের গোপনীয় জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচির যোগসূত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের কয়েকটি গবেষণাগার সম্ভবত চীনা জীবাণু অস্ত্র গবেষণা এবং বিকাশের জন্য নিযুক্ত রয়েছে।’ করোনা ভাইরাস নিয়েও ওই প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করছে বলে ধারণা করছেন তিনি। সার্সের মতো ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বলে জানান ড্যানি।

তবে চীনা কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে তারা করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

এদিকে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত চীনে ৮১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৭শ ৪৪ জন। বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

জৈব অস্ত্র কনভেনশন

ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট চীনের একমাত্র ‘পাথোজেন লেভেল ৪’ চিহ্নিত গবেষণাগার। এর মানে হচ্ছে এই ইনস্টিটিউটে গবেষণা করা অণুজীব যেন না ছড়ায় সেই ব্যবস্থা আছে তাদের। জুলাইয়ে ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইনস্টিটিউটের জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শোহাম দাবি করেন, চীনের যে চারটি গবেষণাগারে জৈব অস্ত্র তৈরি হয়, উহান তার মধ্যে একটি। তার দাবি, উহান ন্যাশনাল বায়োসেফটি ল্যাবরেটরিতে ইবোলা, নিপাহ ও ক্রিমিয়ান কঙ্গো ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়েছিলো।

১৯৯৩ সালে চীন উহানকে দ্বিতীয় জৈব অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৮৫ সালে জৈব অস্ত্র কনভেনশনে স্বাক্ষর করে চীন।

গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন জৈব অস্ত্র উন্নয়নে জড়িত থাকতে পারে। সেখানে বলা হয়, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্যমতে চীন এই সময়ে জৈব রাসায়নিক গবেষণা দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে যা জৈব অস্ত্র কনভেনশন অনুযায়ী উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সামরিক মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখে বলছে, এমন গবেষণা জৈবিক হুমকি তৈরি করে।’ তবে রাটজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট রিচার্ড এব্রিট বলেন, এই মুহূর্তে আসলে বলা সম্ভব নয় যে এই করোনা ভাইরাস গবেষণাগারে উৎপন্ন হয়েছে কি না।