‘যৌন দাসীর’ সঙ্গে মিলনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ব্রিটিশ প্রিন্সের

45
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

এক সময়কার বন্ধু জেফ্রি এপস্টেইনের ‘যৌন দাসী’র সঙ্গে মিলনের অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তিনি বলেছেন, দুই দশক আগের এক রাতে লন্ডনের একটি অভিজাত গৃহে ওই কিশোরীকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়।

সে রাতে বাচ্চাদের একটা পার্টি শেষে বাড়িতেই ছিলেন বলেও দাবি করেছেন রানি এলিজাবেথের দ্বিতীয় সন্তান। মার্কিন বিনিয়োগকারী এপস্টেইন অগাস্টে জেলের ভেতর আত্মহত্যা করেন। এর কয়েক মাস পর এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিটিশ এ সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, তাদেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টেইনকে নিয়ে কিছুটা অসংলগ্ন ও বিপরীতধর্মী কথা বলেছেন এলিজাবেথপুত্র। অ্যান্ড্রু বলেছেন, এপস্টেইনের আচরণ ছিল ‘অশোভন’, এরপরও তিনি তাদের বন্ধুত্ব নিয়ে অনুতপ্ত নন, কেননা এই বন্ধুত্ব তাকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিয়েছিল।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের একজন ভার্জিনিয়া জিউফ্রের দাবি, মার্কিন এ বিনিয়োগকারী যখন তাকে ‘যৌন দাসী’ হিসেবে ব্যবহার করতেন, সে সময়ে ১৯৯৯ থেকে ২০০২ পর্যন্ত তাকে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক ও এপস্টেইনের মালিকানাধীন ক্যারিবীয় একটি দ্বীপে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। শনিবার সম্প্রচারিত ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎকারে ডিউক অব ইয়র্ক তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি দুই দশক আগে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে জিউফ্রির সঙ্গে দেখা হওয়া, একসঙ্গে নাচা, ঘর্মাক্ত হওয়া এবং পরে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ খারিজে নিজের দাবির স্বপক্ষে বেশকিছু কারণও বলেছেন। জানিয়েছেন, রোগে ভুগে সেসময় তার শরীরে ঘাম হওয়াই বন্ধ ছিল।

যে রাতে দেখা ও যৌনমিলন হয়েছে বলে জিউফ্রে অভিযোগ করেছেন, সেই রাতে তিনি মেয়ে বিয়েট্রিসকে সঙ্গে নিয়ে ওকিংয়ের একটি পিৎজা এক্সপ্রেস রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন; পরে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ছিলেন।

“সুস্পষ্টভাবে, দ্ব্যর্থহীনভাবে আমি আপনাকে বলতে পারি, এটা কখনোই ঘটেনি; ওই নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো স্মৃতি নেই আমার, কিছু নেই,” বলেছেন এ ব্রিটিশ রাজপুত্র। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারেও ব্যাখ্যা দেন তিনি। বলেন, মার্কিন এ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তার জন্য নানান সুযোগের দ্বার ‍খুলে দেয়।

“যে ব্যক্তির সঙ্গে আমি মিশেছিলাম, তাকে জানাশোনার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, সত্যিকার অর্থেই তা খুব প্রয়োজনীয় ছিল,” বলেছেন তিনি। ২০০৮ সালে নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়ী এপস্টেইন ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তঃবয়স্ককে পতিতাবৃত্তির অনুরোধ ও ভাড়া করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এরপরও অ্যান্ড্রু কেন বন্ধুর নিউ ইয়র্কের বাসায় থেকেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিউক অব ইয়র্ক বলেন, এপস্টেইন ছিলেন ‘খুবই সম্মানিত’ এক ব্যক্তি।

“থাকার জন্য এটি ছিল উপযুক্ত জায়গা। ওই সময় সেখানে থাকাটাকে ঠিক ও সম্মানজনক মনে করেছিলাম আছি। আমি স্বীকার করছি, তাকে খুব সম্মানিত মনে করাটাও হয়তো আমার বিবেচনাকে প্রভাবিত করেছিল, কিন্তু এটি এমনই ছিল,” সাক্ষাৎকারে বলেন এলিজাবেথপুত্র।

জিউফ্রে এর আগে ভার্জিনিয়া রবার্টস নামে পরিচিত ছিলেন। এ নারীর অভিযোগ, অ্যান্ড্রুর সঙ্গে প্রথম যৌন সম্পর্কের সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৭। সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে আসা ২০০১ সালে জিউফ্রের কোমরে হাত রেখে তোলা ছবিটি নিয়েও কথা বলেছেন অ্যান্ড্রু।

ছবিতে নিজেকে চিনতে পারার কথা স্বীকার করলেও ছবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। “আমি বিশ্বাস করিনা ছবিটি সেভাবে তোলা হয়েছে, যা ইঙ্গিত করা হচ্ছে। ছবিটি কখনো তোলা হয়েছে কিনা তাই মনে করতে পারছি না আমি,” বলেছেন অ্যান্ড্রু।

জিউফ্রের সঙ্গে কোনো ধরনের অগ্রহণযোগ্য সম্পর্কে জড়ানোর কথা আগেও অস্বীকার করেছেন এ ব্রিটিশ রাজপুত্র। বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্রও জিউফ্রের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর কোনো ধরনের যোগাযোগ ও যৌন সম্পর্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরে ডিউক অব ইয়র্কও জানান, তিনি প্যালেসের বিবৃতির সঙ্গে একমত। এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, ফ্লোরিডায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া মার্কিন এ বিনিয়োগকারী জেল থেকে বের হওয়ার পর ২০১০ সালে তিনি ‘বন্ধুত্ব ভেঙে দিতেই’ এপস্টেইনের নিউ ইয়র্কের বাড়ি গিয়েছিলেন।

৬৬ বছর বয়সী এপস্টেইন চলতি বছরের ১০ অগাস্ট ম্যানহাটনের কারাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More