জাবি বন্ধের নির্দেশ না মেনে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

109
gb

জিবি নিউজ ২৪

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আট শিক্ষকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দায়িত্ব পালনের সময় চার সাংবাদিককেও মারধর করে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সিন্ডিকেট সভা করে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখনও হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন; আবার অনেকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন।

রাত ১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। হলের তালা ভেঙে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ছাত্রীরাও। এ সময় তারা বুধবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সকাল ৯টায় ক্যাম্পাসের মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল এবং পরে শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সমাবেশে বুদ্ধিজীবীরাও যোগ দেবেন বলে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জাানান।

হামলায় আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক রেজওয়ানুর রহমান।

আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস ও মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- দর্শন বিভাগের মারুফ মোজাম্মেল, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাহাথির মুহাম্মদ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাইমুম ইসলাম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রনি, ইংরেজি বিভাগের আলিফ মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগের উল্লাস, দর্শন বিভাগের রুদ্রনীল এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সৌমিক বাগচী। এ সময় সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্রী ছন্দা ও সাউদাকেও মারধর করা হয়।

এ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন- প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম, বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আজাদ, বার্তাবাজারের প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন হিমু এবং বাংলা লাইভ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল।

এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, জাবি পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যবেক্ষণ করছেন। বনানীর সেতু ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আছে, এর সর্বশেষ খবর প্রধানমন্ত্রী জানেন। সরকারপ্রধান এ ব্যাপারে খুব সজাগ। তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।’

গত ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ১১ ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০ জন কারাগারে আছে। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনার ঠিক এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

যেভাবে হামলা: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে তার বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল সোয়া ১১টায় উপাচার্যপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যকে বাসা থেকে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে আসেন। এ সময় উপাচার্যপন্থি শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক চলতে থাকে।

এরই মধ্যে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে মিছিল সেখানে আসে। আন্দোলনকারীদের মারধর করতে থাকে তারা। বায়েজীদ রানা, অভিষেক মণ্ডল, নাহিদ হাসান, মাহমুদুল হাসান পরাগ নামের কয়েকজন অছাত্রসহ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী এই মারধরে অংশ নেন। তারা আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি দিয়ে ছত্রভঙ্গ করেন। আন্দোলনরত কয়েক শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়েও মারধর করেন।

মারধরের সময় উপাচার্যপন্থি শিক্ষক সোহেল আহমেদ, নাসির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, আবদুল মান্নান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান জনিসহ কয়েকজনকে ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ ও ‘মার মার’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। হামলা চলার সময় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থাকা পুলিশ নীরব ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উভয়পক্ষেই ছাত্র-শিক্ষকরা রয়েছেন। সংগত কারণেই কারও ওপর হাত তুলতে পারি না। তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে এর সমাধান করবেন।’

হামলার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা জানান, তারা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চান। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবির-সংশ্নিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে মব তৈরি হয়েছিল। চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। বড় ঘটনা এড়াতে তৎপরতা চলছে।’

ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ উস্কানিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। হামলার ঘটনায় ভিসিপন্থি শিক্ষকরা হামলাকারীদের স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, যে কোনো শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য শিবির ব্লেইম দেওয়াটা পুরোনো অপকৌশল। এসব কথা দুর্নীতি ঢাকার অপকৌশল।

মারধরের ঘটনার আধা ঘণ্টা পর উপাচার্যপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পুলিশের কড়া পাহারায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বাসভবন থেকে বেরিয়ে কার্যালয়ে আসেন। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়াকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ আখ্যা দিয়ে উপাচার্য বলেন, সহকর্মী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রলীগের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা দায়িত্ব নিয়ে এ কাজটি করেছে। তিনি জানান, সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য তারা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা বসে। সিন্ডিকেট সভার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

বিক্ষোভ মিছিল: উপাচার্যের অপসারণ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের প্রতিবাদে বিকেলে তিন শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিপুলসংখ্যক ছাত্রীও এ মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তারা ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা রুটের যাতায়াতকারী বাসও আটকে রাখা হয়।

মিছিলটি ছাত্রীদের হল হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গেলে ছাত্রলীগ ও উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা তাদের বাধা দেন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ও আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন। আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা কাদের কাছে হামলার বিচার চাইব! যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে? আমরা এই উপাচার্যের কাছে বিচার চাইব না।’

রাতে হলের তালা ভেঙে বিক্ষোভে ছাত্রীরা: রাত পৌনে ১০টার দিকে আবাসিক হলের তালা ভেঙে আবারও বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন সাতটি হলের ছাত্রীরা। এর মধ্যে খালেদা জিয়া হলে তালা না থাকায় ছাত্রীরা বাধাহীনভাবেই বিক্ষোভে যোগ দেন।

রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এর আগে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছাত্রী হল এলাকায় পৌঁছায়। এরই মধ্যে সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা সমকালকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবন থেকে সন্ধ্যায় চলে এসেছে। ছাত্রলীগের একটাই দাবি- আন্দোলনে শিবির-সংশ্নিষ্ট সবাইকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক। এ জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে তদন্ত করে তাদের বিচার করতে হবে। না হলে নতুন কর্মসূচি দেবো।’

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। এ সময় যদি আমাদের কোনো কর্মী তাদের আঘাত করে থাকে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা: জাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যৌক্তিক আন্দোলনকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে ছাত্রলীগ ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। জাসদ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তৌফিক উজ জামান পীরাচা বিবৃতিতে এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ভিসির পদত্যাগের পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটা গণতান্ত্রিক সমাজে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

জাবি শিক্ষক সমিতির সম্পাদকসহ চারজনের পদত্যাগ: চলমান আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় জাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ চারজন পদত্যাগ করেছেন।

অন্যরা হলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন তুহিন, সদস্য অধ্যাপক মাহবুব কবির ও অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস। অধ্যাপক সোহেল রানা বলেন, শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের সহায়তায় হামলা চালিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্লিপ্তভাবে উপাচার্যের পক্ষাবলম্বন করে চলেছে। তাই পদত্যাগ করছি।

ঢাবিতে মশাল মিছিল: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, জাবিতে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মিছিলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, মশিউর রহমান, মো. আতাউল্লাহ, ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা তিন দফা দাবি জানান।

দাবিগুলো হলো- নৈতিক স্খলনের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও অগণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা।

এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, দুঃখের বিষয় যে, ভিসি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, ছাত্রলীগ তার লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন