যাদের ষড়যন্ত্রে বিদেশে ইমেজ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে সরকারের

61
gb

জিবি নিউজ ২৪ 

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর সরকারের ওপর তেমন কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই। কিন্তু একাধিক গোয়েন্দা সূত্র সরকারকে জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে নিত্য-নতুন ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের চেয়ে দেশের বাইরে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট, একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার হিসেবে প্রতিপন্ন করার জন্য সক্রিয় একটি মহল কাজ করছে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এ রকম ৯ জনের একটি নামের তালিকা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছে জমা দিয়েছেন। যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অপপ্রচার এবং কুৎসা রটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।                                                   এ তালিকার মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. কামাল হোসেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

একাধিক সূত্র জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় সুজনের উদ্যোগে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সংলাপে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে এই আলোচনাগুলোকে বহির্বিশ্বে, বিশেষ করে প্রভাবশালী দেশগুলোতে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করছেন ড. কামাল হোসেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জানা গেছে, মার্কিন সিনেট এবং কংগ্রেসের কাছে এই গোলটেবিল বৈঠকের ক্লিপিংসগুলো পাঠানো হয়েছে। এ কাজে সহায়তা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সূত্রমতে, ইউনূস সেন্টারের অন্তত দুইজন কর্মকর্তা সরকারের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে দরবার করছেন। যেন তারা এই নির্বাচনের ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

ড. কামাল হোসেনও নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। তাদের কাছে এই নির্বাচনের ব্যাপারে নানা নেতিবাচক তথ্য তুলে ধরছেন। সাবেক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার পর তিনিও তৎপর হয়ে উঠেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ উত্থাপন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর কাছে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে সরকারের বিরুদ্ধে মানবতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার তার সুজনের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে সরকারের বিরুদ্ধে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক মহলে তিনি এই তথ্য উপাত্তগুলো সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরকারের উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের উন্নয়ন টেকসই নয় এবং অনতিবিলম্বে বাংলাদেশে যে বৈষম্য বাড়ছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতার ব্যাপারে নেতিবাচক কুৎসা রটনা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। মাহফুজ আনামও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যম বিষয়ক সংস্থায় নিয়মিত লবিং করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে টিআইবি সরাসরি সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতির ব্যাপারে গবেষণার নামে তদন্ত এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য কাজ করছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ব্যক্তিদের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য যে প্রচারণাগুলো চলছে সেই ব্যাপারে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে।

 

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More