২ লাখ টাকার ব্যাংক রশিদ উপ-উপাচার্যের ভাগনেকে পাঠান চাকরিপ্রত্যাশী

বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের দর-কষাকষির একটি ফোনালাপ ফাঁসের পর ইসলামী ব্যাংকে জমা দেওয়া ২ লাখ টাকার একটি রশিদের খোঁজ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া।

উপ-উপাচার্যের দাবি, চাকরিপ্রত্যাশী আইন বিভাগের নুরুল হুদা অসাধু কিছু ব্যক্তির কবলে পড়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন-এমন তথ্য পেয়েই তার স্ত্রীকে সতর্ক করার জন্য উপ-উপাচার্য ফোন দিয়েছিলেন।                                                          

তবে চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদা বলছেন, নীলফামারির সৈয়দপুরে ইসলামী ব্যাংক শাখায় ২ লাখ টাকা জমা দেওয়ার সেই রশিদটি পাঠিয়েছিলেন তিনি নিজেই। উপ-উপাচার্যকে সেই রশিদটি দেওয়ার জন্য গত বছরের ১১ নভেম্বর তার ভাগনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর গাজী তৌহিদুর রহমানকে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে গাজী তৌহিদুর রহমানকে পাঠানো সেই রশিদটির একটি স্ক্রিনশট দৈনিক  পত্রিকা অনলাইন’র হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাজী তৌহিদুর রহমান প্রথমে নুরুল হুদাকে হাই (hi) বলেছেন। এরপর নুরুল হুদা হ্যালো (hlw) বলেন। তারপরই সেই রশিদটি ওই শিক্ষকের মেসেঞ্জারে পাঠান হুদা।                                                                           

অথচ গত ১ অক্টোবর দৈনিক  অনলাইন’র কাছে পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হলে বিশ্বস্তসূত্রে জানতে পারি যে, হুদা অসাধু কিছু ব্যক্তির কবলে পড়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছে। এ রকম একটি লেনদেনের ডকুমেন্ট ১৩/১১/২০১৮ তারিখের চাকরির বোর্ডের আগে আমার নজরে আসে (নীলফামারির সৈয়দপুর শাখার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: এর ০৪/১১/২০১৮ তারিখের ৮০০০৭৩৯ ক্রমিকের একটি ব্যাংক জমা স্লিপ)। স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে এহেন অসাধুকর্ম রোধকল্পে খোঁজ নেওয়ার জন্য হুদার স্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলাম। কারণ, হুদার স্ত্রীর বাড়ি সৈয়দপুরে, হুদার স্ত্রী সেসময় ব্যাংক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছিল। কিন্তু বিস্তারিত বলতে রাজি হয়নি।’

তবে ইসলামী ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখায় কার কাছে সেই টাকাটি পাঠানো হয়েছিল বা কে পাঠিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সেই রশিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার ভাগনে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গাজী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘নুরুল হুদা চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়েছিলেন। যে রশিদটা সামনে আসছে,  “ডিসেন্ট ট্রেডার্স”র নাম আছে। সে (নুরুল হুদা) নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য এটা আমার কাছে দিয়েছিল।’

সেই টাকাটা কাকে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে উপ-উপাচার্যের ভাগনে বলেন, ‘উনি (নুরুল হুদা) আমাদের যেটা বলেছিলেন, উনার ডিপার্টমেন্টের টিচারকে পাঠিয়েছিলেন।’  

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন