গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি’তে তদন্ত কাজ শেষ করেছে ইউজিসি , তিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ , প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে শিক্ষার্থীদের ঘোষণা

84
gb

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি’তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শেষ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি’র) তদন্ত কমিটি। ভিসি অপসারণের এক দফা এক দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশনসহ লাগাতার আন্দোলনের ৮ম দিনে বৃহষ্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরীতে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউজিসি’র তদন্ত কমিটির সদস্যগণ তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেন। ২৪ ঘন্টার তদন্ত কাজ শেষ করে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে তদন্ত কমিটির প্রধান ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তারা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকে যাবতীয় অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসি-বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বহিরাগতদের হামলায় যারা আহত হয়েছে, তাদের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ভবিষ্যতে আর কখনও এধরণের ঘটনা ঘটবে না বলেও তারা আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় ইউজিসি’র তদন্ত কমিটির অন্য

সদস্যগণ প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন ও উপ-পরিচালক মৌলি আজাদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় ৫-সদস্যবিশিষ্ট ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবি’তে যান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেন। তিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ: এদিকে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন মামলা বা কার্যকরি পদক্ষেপ বা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অবিহিত করে বৃহষ্পতিবার দুপুরে সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সহকারী প্রক্টর ফার্মেসী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. মোঃ তরিকুল ইসলাম। এ নিয়ে মোট তিনজন সহকারি প্রক্টর তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সহকারী প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাজমুল হক শাহীন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে গত শনিবার সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী প্রভাষক মোঃ হুমায়ন কবির। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: এদিকে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের সকল অনিয়ম, দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ ও ভর্তি-বাণিজ্যসহ সকল অপকর্মের সুষ্ঠু, বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তদন্ত দাবি করে সংবাদ-সম্মেলন করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বৃহষ্পতিবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্ত¡রে আয়োজতি সংবাদ-সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি বিশেষ মহল সর্বক্ষণ চেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ‚য়া একাউন্ট খুলে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের নামে অশালীন মন্তব্য করছে এবং সে দায়ভার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ঘোষণা দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা ভিসি অপসারণের এক দফা এক দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্যাম্পাসে ঘন্টাব্যাপী মানব-বন্ধন করে। এছাড়াও প্রতিদিনকার মত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাদের অনশন কর্মসূচীতে তারা বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে দফায় দফায় ¯েøাগান-সমৃদ্ধ সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More