ঈদ আর একদিন বাকী মৌলভীবাজরে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, পশু বিক্রী কম

140

নজরুল ইসলাম মুহিব,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ।।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। গরুর বাজারে ছোট-বড় ট্রাকে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে দেশীয় গরু। সেইসঙ্গে বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড় ও। ফলে ক্রেতা- বিক্রেতাদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে উঠছে ঈদের পশুর হাট। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ততোই বাড়ছে। তবে সে অনুপাতে এখনো বিক্রি বাড়েনি। জেলায় ৪৩টি কোরবানির পশুর হাট। তবে এ বছর জেলায় চাহিদার চেয়ে ১৮ হাজার পশু ঘাটতি আছে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানায়, এ বছর মৌলভীবাজারে কোরবানিতে গরুর চাহিদা রয়েছে ৫৯ হাজার ৯৪৯টি। এর বিপরীতে জেলায় পালন করা হয়েছে ৪৮ হাজার ২৬১টি। ২৩ হাজার ছাগলের চাহিদার বিপরীতে মজুত আছে ১৬ হাজার ৫৬১টি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবিএম সাইফুজ্জামান বলেন, জেলায় এ বছর চাহিদা ৮২ হাজার ৯৬৪টি পশুর। জেলায় রয়েছে ৬৪ হাজার ৮২২টি পশু। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় ঈদুল আজহায় কোরবানির গরুর চাহিদা বেশি থাকে। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী এই জেলায় গরু না থাকায় দেশের অন্যান্য জেলা থেকে গরু এনে চাহিদা পূরণ করা হবে এবং হাওরাঞ্চলের খামারিসহ অন্যান্য খামারিদের প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে, আগামীতে আরও প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের সহায়তা করা হবে। মৌলভীবাজার পৌর এলাকার প্রধান পশুর হাটের ইজারাদার মো: যুবায়ের আহম্মদ জানান, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় এখনো জমে উঠেনি, তবে আশাকরি অতি

 

তাড়াতাড়ি গরুর বাজার জমে উঠবে। শনিবার (১০আগষ্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠের পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দেশি-গরু, ছাগল, ভেড়াসহ পশুর সংখ্যা অনেক বেশি। বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত ও নেপাল থেকে কিছ ুসংখ্যক গরু-ছাগল এলেও গত বছরের তুলনায় তা কম। এজন্য দেশি গরুর দামি এবার একটু বেশি। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পশু ব্যবসায়ী রহিম মিয়া মৌলভীবাজার জানান, ৪২ টি গরু নিয়ে এসেছি তেমন বিক্রি হচ্ছেনা। আশা করছি শেষ সময়ের আগেই বিক্রি করতে পারব। গরু কিনতে আসা মাকিল উদ্দিন ও জীবন চৌধুরী জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কেনার জন্য চেষ্টা করছেন। তবে এবার দাম বেশি। গতবার যে গরু ৩০ হাজার টাকা কিনেছেন, এবার একই মাপের গরু ৫০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটে আনা আমেরিকান জাতের ব্রামা বাদশাহ্ধসঢ়; নামের গরুরটির মূল্য হাকা হচ্ছে ১০ লাখ। বিক্রেতা খালেদ জানান সখের বসে শুরু করেন প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গরুর বলদ ও ছাগল মোটাতাজা করন। তার খামারের বয়স ১০ মাস। এখানে ৪ থেকে ৬ জন লোক কাজ করে জিবীকা নির্বাহ করে। গরুর জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রামা, নেপালী, শাহীওয়াল, সিন্ধি ও দেশীয়। গরুর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগলও মোটাতাজা করছেন। জেলার মোকাম বাজার,ব্রাহ্মণবাজার, মুন্সিবাজার, চৌধুরীবাজার, রবিরবাজার, দীঘিরপাড় বাজার, সরকারবাজার, আদমপুর বাজার, মাধবপুর বাজার, ফুলতলা বাজার, জুড়ি বাজার,বড়লেখা বাজার,শাহাবাজপুর বাজার কুলাউড়া পৌরসভা বাজার,শেরপুরবাজার ও শ্রীমঙ্গলবাজারে গরুর হাটও বেশ জমে উঠছে বলে জানা গেছে। এদিকে, পশুর হাটের নিরাপত্তা নিয়ে সচেষ্ট পুলিশ। র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ টিম রয়েছে।