মৌলভীবাজারে ছেলেধরা গুজবে আতঙ্ক, সন্দেহ হলেই গণ পিটুনি, স্কুলে, কলেজে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা কম

147

নজরুল ইসলাম মুহিব,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \

সম্প্রতি জেলার সর্বত্র ছেলেধরা গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরিচিত কাউকে সন্দেহ হলেই গণপিটুনির স্বীকার হতে হয়। গুজবে এক বৃদ্ধকে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন ৫জন। ছেলেধরা সন্দেহে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তত ১০জন। ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছেলেধরা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত আইডি ও ফেইসবুক পেজ থেকে এসব গুজব রটানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ছেলেধরা গুজবে আতঙ্কিত হয়ে অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছেন। বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা কমে গেছে। অনেক অভিভাবক স্কুল ছুটির আগে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যেতে চান। এ নিয়ে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ করবেন বলে জানান শিক্ষকরা। মৌলভীবাজার শহরতলীর জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা জহুরা জানান, ছেলেধরা সন্দেহে স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৪০-৫০ ভাগ। আগে যেখানে ৯০-৯৫ভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকত। এমনকি অভিভাবকরা স্কুলের কক্ষে এসে বসে থাকেন। যার কারণে পাঠদান ব্যহৃত হচ্ছে। সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে।শাহবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খালেদ চৌধুরী জানান ছেলেধরা আতংকে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সুষ্টি হয়েছে। গত রবিবার (২১ জুলাই) মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট ব্রিজের পাশে রিকশাচালক এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে পথচারীরা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ঐদিন সকালে জেলার জুড়ি উপজেলার মাধবটিলা গ্রামে এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। পরে এলাকার মুরব্বিদের সহযোগিতায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন আছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধকে (৫০) পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। এই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরদিন ৩শ থেকে ৪শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে জেলাজুড়ে। ছেলেধরা আতঙ্কে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে গত শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছেন এলাকাবাসী। ফুফাতো ভাইকে খুঁজতে আসেন ভদ্রলোক। সেখানে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার ছেলেরা তাকে মারতে গেলে স্থানীয় যুবক আব্দুল কাইয়ুম মুন্না উদ্ধার করে তাকে নিজের হেজাফতে নেন। আব্দুল কাইয়ুম মুন্না জানান, যখন জিজ্ঞেস করি তখন জানান তার ফুফাতো ভাইকে খুঁজতে এসেছেন। নাম বলেছেন কিন্তু ছবি কিংবা মোবাইল নম্বর নাই। লোকটি ভদ্রলোক। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি এ নামে আমাদের এলাকায় একজন আছেন যিনি কিছুদিন আগে জমি কিনে নতুন এসেছেন। যদি ওনাকে উদ্ধার না করা হতো তাহলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারত। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ফজলুল আলী জানান ছেলেধরা গুজবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম,আমরা ক্লাস রুমে রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সচেতনতা বৃদ্দির চেষ্টা আব্যহত রাখছি। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে যাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে আমরা খবর পেয়ে সেখান থেকে তাদের সাথে সাথে উদ্ধার করেছি। আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা, সমাবেশ, লিফলেট বিতরন ও মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেইসবুক আইডি বা পেজে গুজব যারা ছড়াচ্ছে এ রকম কেউ মৌলভীবাজারে নেই।