বিদ্যুৎবিহীন ৮ ঘণ্টা, শ্রীমঙ্গলে মরল ১২ সহস্রাধিক মুরগি

73

দুঃসহ গরমে অসহনীয় ৮ ঘণ্টা কাটিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের মানুষজন। অত্যাধিক গরমে উপজেলার পাচঁ শতাধিক ক্ষুদ্র পোলট্রি খামারের হিট স্ট্রোকে ১২ সহস্রাধিক মুরগি মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে।

এতে ক্ষুদ্র খামারীরা ২৫ লক্ষাধিক টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বঘোষিত ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিনের কারণে দুঃসহ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মিল, শিল্প কারখানার স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকে। নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুরদের ভ্যাপসা হাঁপিয়ে উঠতে দেখা গেছে।

শ্রীমঙ্গল পোল্ট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ না থাকার জন্য ১২ সহস্রাধিক ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুতে তাদের ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে প্রতিটি খামারে অধীক বিলের শিল্প মিটার স্থাপন করে উচ্চ হারে তারা বিল নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু তাদের এই বিশাল ক্ষতির দায়ভার কেন নেবে না?

আগামীতে রাতের বেলায় মেরামতের কাজ সম্পাদন করা যায় কিনা ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়ে হাবিবুর রহমান জানান, ব্রয়লার মুরগির বাজার দর এমনিতেই নিম্নমুখী এবং ব্যাংক ঋণসহ খামারিরা দেউলিয়া হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই!

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সিরাজনগর গ্রামে বিসমিল্লাহ পোল্ট্রি ফার্ম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাদের এ বিপুল ক্ষতিতে ন্যূনতম কোনো সহযোগিতা করা যায় কিনা আমি ব্যাক্তিগতভাবে চেষ্টা করব।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্রীমঙ্গলস্থ সদর দফতরের জেনারেল ম্যানেজার শিবু লাল জানান, ‘২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিব এমন কোনো চুক্তি নেই তাদের সঙ্গে। যে কোনো বিপর্যয় হতে পারে। তারা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিকল্প হিসাবে জেনারেটরের ব্যবস্থা করতে পারেন।’

মন্তব্য
Loading...