১৪ বছরে কোনো ক্লাস কামাই দেয়নি যে

35

শিক্ষা জীবনে রামিম টানা ১৪ বছরে কোনো ক্লাস কামাই দেয়নি কে এম রাইদ ইসলাম রামিম। প্লে থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এক দিনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি নেই তার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পারিবারিক সমস্যা, এমনকি রোগব্যাধি উপেক্ষা করেও নিয়মিত ক্লাসে হাজির। পড়ালেখার প্রতি ভালোবাসা, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের উৎসাহে এক দিনও ক্লাস কামাই না করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রামিম।

আর এ জন্য ঝালকাঠির নলছিটিতে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে ‘ক্লাস প্রেমিক’ এম রাইদ ইসলাম রামিমকে। বুধবার দুপুরে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম তাকে সংবর্ধনা দেন।

রামিম ঝালকাঠির নলছিটি শহরের ব্যবসায়ী কে এম মোস্তাক খানের ছেলে। তাঁর মা গৃহিণী নাজমা আক্তার। সে ঢাকার রাজুক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয় থেকে সে একাধিক পুরস্কার ও সনদপত্র পেয়েছে। তাকে শিক্ষার্থীদের ‘অনুকরণীয় আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার শিক্ষকরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে রামিমকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বাবা মা ছাড়াও নলছিটি পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রামিম জানায়, সে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের একজন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার প্রবল আগ্রহ তার। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছে রামিম।

জানা গেছে, রামিমের জন্ম ২০০১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে নলছিটি পৌর কিন্ডার গার্টেনে প্লে ক্লাসে ভর্তি করা হয় তাকে। প্লে ক্লাসে এক বছরে টানা উপস্থিতি ছিল তার। পরে নার্সারি ক্লাসেও শতভাগ উপস্থিতি। দুই বছরের টানা উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দুটি পুরস্কার দেয়। এতে শ্রেণিকক্ষের প্রতি তার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ২০১১ সালে ওই কিন্ডার গার্টেন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একমাত্র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে।

সেই কিন্ডার গার্টেনে শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতির জন্য সাত বছরে সাতটি পুরস্কার দেয়া হয় তাকে। এক নাগারে সাত বছর টানা শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতি ও ২০১১ সালে ওই কিন্ডার গার্টেন থেকে একাই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করায় তত্কালীন অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমান খান হেলাল তাকে বিশেষ পুরস্কার (ক্রেস্ট) ও সনদপত্র প্রদান করেন।

রামিম বলে, ‘আমি যখন বুঝতে পারলাম শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতিই ভালো ফলাফলের একমাত্র মাধ্যম, তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছি, যত দিন পড়ালেখা করব এক দিনও ক্লাস বন্ধ দেব না। ক্লাসে ঠিকমতো পড়ালেখা করলে প্রাইভেট পড়তেও হয় না। প্রতিদিন ক্লাসে আসার কারণে শিক্ষকরাও আমাকে ভালোবাসেন। আমাকে দৃষ্টান্ত দেখিয়ে অনেক সহপাঠীকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য বলেন। আমি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বুয়েটে লেখাপড়া করতে চাই। আমি যত দিন শিক্ষার্থী থকব, তত দিনই সব ক্লাসে উপস্থিত থাকব।’

সে বলে, এখন আমার একটাই ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, রামিমের কৃতিত্ব ও বিরল ক্লাস প্রেমের কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি। একটি ছেলের কটটা ধৈর্য্য থাকলে সে টানা ১৪ বছর ক্লাসে একটিও কামাই দেয়নি। আমি তার গল্প শুনে একটি সংবর্ধনা দিয়েছি। আশা করি তার সব ইচ্ছা পূরণ হবে। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে, এ আশাটাও তার পূরণ হবে।

মন্তব্য
Loading...