শীতের আগমনে ব্যস্ত ঝিনাইদহের গাছিরা

749
gb

আতিকুর রহমান টুটুল ঝিনাইদহ থেকে ||

প্রকৃতিতে শীতের আমেজ এসে গেছে সকালসন্ধ্যা নিয়ম করেইপ্রকৃতির ঘোমটাকুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পড়ে মেঠোপথ আর এর মধ্যেই শীতের উপাদেয় খাবার খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে গেছেন গাছিরাঝিনাইদহ জেলার প্রায় ৪শতাধিক গাছি এখন দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন গাছে গাছে যেন মাটিতে পা ফেলার ফুরসতটুকু নেই অভাবী গাছিদেরগাছ তো অন্নদাতা তাকে যতœ-আত্তি না করলে কি রস মিলবে? আর রস না মিললে গুড়ও হবে না তখন তো না খেয়ে থাকতে হবে বাপু”, একদমেই কথাগুলো বললেন উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের বংকিরা গ্রামের গাছি বাবলু বিশ্বাসতিনি বলেন, শীত আসা মাত্রই আমরা খেজুর গাছ তোলার (রস সংগ্রহের জন্য কাটা) জন্য সকালসন্ধ্যা লেগে আছি এলাকায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে আগের মতো এখন বেশি রস সংগ্রহ হয় না গাছি বাবলু বিশ্বাস এবার প্রায় এক পণ (৮০টি) খেজুর গাছ ইতোমধ্যে তোলা শরু করেছেনরস জ্বাল দিতে যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন তা পাওয়া যায় নাআক্ষেপ করে বাবলু বিশ্বাস জানান, ‘যা আছে তা দিয়েই আমরা পেশা চালিয়ে যাচ্ছি বছরে পাঁচ মাস খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে তা জ্বালিয়ে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করি পেশায় কেমন চলে পরিবার? এমন প্রশ্নের জবাবে পঞ্চাশোর্ধ্ব বাবলু বিশ্বাস একটু মুচকি হাসি দিয়েই বলেন, যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবার নিয়ে মন্দ নেইজেলার বিভিন্ন গাছিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আশ্বিনের শেষ থেকেই খেজুর গাছ তোলা পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা এটাই উপযুক্ত সময় ফাল্গুনের গুড় বিক্রির মধ্যদিয়ে শেষ হয় প্রক্রিয়া সরজমিনে জেলার সদর উপজেলার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ব্যন্ত গাছিরা দা, ঠুঙি, দড়ি নিয়ে ছুটে চলেছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে গাছিদের প্রক্রিয়াজাত করা খেজুরের গুড়, পাটালি বা রস দিয়েই কয়েকদিন পরেই মুখরোচক পিঠা, পুলি, পায়েস তৈরির ধূম পড়বে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে

শুধু কি তাই, খেজুরের গুড় বা রস দিয়ে তৈরি মুড়ি, চিড়ার মোয়া লেপমুড়ি দেওয়া শীতের সকালে খাওয়ার মজা উপভোগ করেন আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই